নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝালদা:
সংস্কৃতির আধার ভূমি পুরুলিয়া। এখানে কথা বললেই গান আর পা ফেললেই নাচ। সেই পুরুলিয়ার ঐতিহ্যমন্ডিত সাংস্কৃতিক মানচিত্রে আরও এক উজ্জ্বল সংযোজন। ঝালদার কৃতি সন্তান, তরুণ নাট্যশিল্পী অচিন্ত্য মুখোপাধ্যায় এবার জাতীয় স্তরে পেলেন বড় স্বীকৃতি। কেন্দ্রের সংস্কৃতি মন্ত্রকের অধীনস্থ সেন্টার ফর কালচারাল রিসোর্সেস অ্যান্ড ট্রেনিং বা সিসিআরটি-র মর্যাদাপূর্ণ ‘ন্যাশনাল ইয়ং আর্টিস্ট স্কলারশিপ’-এর জন্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। চলতি বছরে ‘ফোক থিয়েটার’ বিভাগে তাঁর নাম প্রকাশিত হওয়ায় খুশির হাওয়া ঝালদা থেকে গোটা পুরুলিয়া জেলাজুড়ে।
দীর্ঘদিন ধরে থিয়েটারচর্চার সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত অচিন্ত্য। মঞ্চনাটক, লোকনাট্য এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক মাধ্যমে কাজ করতে করতেই তিনি নিজেকে গড়ে তুলেছেন এক প্রতিশ্রুতিমান নাট্যকর্মী হিসেবে। লোকসংস্কৃতির প্রতি তাঁর অনুরাগ এবং গ্রামীণ শিল্পরীতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার নিরন্তর প্রচেষ্টাই তাঁকে এনে দিল এই জাতীয় সম্মান।
সিসিআরটি-র ‘স্কলারশিপ টু ইয়ং আর্টিস্টস ইন ডিফারেন্ট কালচারাল ফিল্ডস’ প্রকল্পটি দেশের তরুণ শিল্পীদের উন্নত প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দিতে চালু হয়েছে। ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত, নৃত্য, নাটক, মাইম, ভিজ্যুয়াল আর্ট, লোক ও ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলার মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য সম্ভাবনাময় শিল্পীদের বেছে নিয়ে এই বৃত্তি প্রদান করা হয়। নির্বাচিত শিল্পীদের দু’বছর ধরে মাসিক আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়, যাতে তাঁরা গুরু বা স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের অধীনে নিয়মিত প্রশিক্ষণ চালিয়ে যেতে পারেন।
জানা গিয়েছে, সারা দেশ থেকে বহু আবেদনকারীর মধ্যে কঠোর বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই স্কলারশিপের জন্য শিল্পীদের নির্বাচন করা হয়। বিশেষজ্ঞ কমিটির সাক্ষাৎকার ও শিল্পচর্চার মূল্যায়নের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত হয়।
অচিন্ত্যর এই সাফল্যে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত ঝালদার সাংস্কৃতিক মহল। স্থানীয় শিল্পী ও নাট্যকর্মীদের একাংশের বক্তব্য, “লোকনাট্য ও থিয়েটারের মতো বিষয়কে আঁকড়ে ধরে জাতীয় স্তরে পৌঁছনো সহজ নয়। অচিন্ত্যর এই প্রাপ্তি আগামী প্রজন্মকে আরও উৎসাহ দেবে।”
লোকশিল্পের শিকড়ে দাঁড়িয়ে জাতীয় স্বীকৃতি— ঝালদার অচিন্ত্য মুখোপাধ্যায় যেন প্রমাণ করে দিলেন, মফস্বলের মঞ্চ থেকেও পৌঁছে যাওয়া যায় দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রথম সারিতে।