ক্রাইম শহর

আবাসিক এলাকায় পানশালা, স্পা! পুরুলিয়া শহরের দেশবন্ধু রোডে তুমুল ঝামেলা, ধৃত ৩

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে‌‌ শনিবার পুরুলিয়া সদর থানার পুলিশ ওই বিলাসবহুল বহুতল ও লাগোয়া হোটেলে এক বড়সড় অভিযান চালায়। বেআইনি কারবারে যুক্ত থাকার এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর অভিযোগে পুলিশ ওই সংস্থার ৩ জন কর্মচারীকে গ্রেফতার করেছে।
আবাসিক এলাকায় পানশালা, স্পা! পুরুলিয়া শহরের দেশবন্ধু রোডে তুমুল ঝামেলা, ধৃত ৩

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:

পুরুলিয়া শহরের প্রাণকেন্দ্র দেশবন্ধু রোডের একটি বেসরকারি বিলাসবহুল আবাসন ও হোটেল চত্বর এখন খবরের শিরোনামে। আবাসিকদের অভিযোগ, তাঁদের শান্তিময় জীবনের অধিকারকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে স্পা এবং পানশালার মতো একাধিক বাণিজ্যিক কারবার। আর এই 'আবাসিক বনাম বাণিজ্যিক' সংঘাতের জেরেই রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এলাকা, যার জল গড়াল থানা-পুলিশ পর্যন্ত।

গত বৃহস্পতিবার রাতে আবাসনের নিচে থাকা একটি পানশালায় বাউন্সার ও বেসরকারি সিকিউরিটিদের হাতে কয়েকজন যুবক নির্মমভাবে প্রহৃত হন বলে অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় স্তরে ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে‌‌ শনিবার  পুরুলিয়া সদর থানার পুলিশ ওই বিলাসবহুল বহুতল ও লাগোয়া হোটেলে এক বড়সড় অভিযান চালায়। বেআইনি কারবারে যুক্ত থাকার এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর অভিযোগে পুলিশ ওই সংস্থার ৩ জন কর্মচারীকে গ্রেফতার করেছে।

আবাসিকদের মূল অভিযোগ, ফ্ল্যাট কেনা সত্ত্বেও তাঁদের বিল্ডিং ম্যাপ বা প্রয়োজনীয় আইনি নথি দেওয়া হয়নি। উল্টে নিজেদের অধিকারের দাবিতে ৭০টি পরিবার মিলে একটি অ্যাসোসিয়েশন গঠন করতে চাইলে, তাতেও বাধা দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। মেইনটেনেন্সের নামে যখন-তখন মোটা টাকা দাবি করা এবং প্রতিবাদ করলেই পানীয় জল বন্ধ করে দেওয়ার মতো হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

আবাসনের বাসিন্দা ছন্দম দেব বলেন,
আমরা কোটি টাকা খরচ করে এখানে ফ্ল্যাট কিনেছি একটু শান্তিতে ও নিরাপদে থাকার জন্য। কিন্তু এখন দেখছি আমরা একটা চক্রের মধ্যে ফেঁসে গেছি। যখন-তখন মেইনটেনেন্সের টাকা বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। অথচ ফ্ল্যাটের ম্যাপ বা লিগ্যাল পেপারস চাইলে আমাদের ঘোরানো হয়। যাতে আমরা একজোট হয়ে প্রতিবাদ করতে না পারি তার জন্য আমাদের কোনো অ্যাসোসিয়েশন গড়তে দেওয়া হচ্ছে না।"

আবাসনের বাসিন্দা পঙ্কজ পোদ্দার জানান,"একটি আবাসিক এলাকার নিজস্ব একটা শালীনতা ও নিরাপত্তা থাকে। কিন্তু এখানে নিয়ম ভেঙে আবাসনের নিচেই পানশালা আর স্পা চালানো হচ্ছে। বহিরাগতদের আনাগোনা লেগে থাকে, মাঝেমধ্যেই ঝামেলা-মারপিট হচ্ছে। আমরা নিজেদের বাড়ির মা-বোনদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম আতঙ্কে ভুগছি। কিছু বলতে গেলেই আমাদের হুমকি দেওয়া হয়, জল বন্ধ করে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। আমরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাই।"

আবাসনের কর্মচারী‌ মনোজ খান্ডেলওয়াল বলেন, "আমাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তার সবকটিই ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কোম্পানি নিয়মের বাইরে গিয়ে কোনো কাজ করেনি। মেইনটেনেন্স খরচ বা অন্যান্য বিষয়গুলি চুক্তি অনুসারেই পরিচালিত হয়। পানশালা বা অন্যান্য ব্যবসার ক্ষেত্রেও সমস্ত আইনি ছাড়পত্র রয়েছে। কিছু মানুষ জলঘোলা করার জন্য জল বন্ধ করা বা হুমকির কাল্পনিক গল্প ফাঁদছেন।"

পুলিশের এই অভিযানের পর সাময়িকভাবে পরিস্থিতি শান্ত হলেও, ক্ষোভের আগুন পুরোপুরি নিভে যায়নি। আবাসিকদের দাবি, শুধুমাত্র ৩ জন কর্মচারীকে গ্রেফতার করলেই সমস্যার সমাধান হবে না; বরং এই বহুতলের নকশা বহির্ভূত বেআইনি নির্মাণ এবং আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক লাইসেন্সের বৈধতা খতিয়ে দেখুক পুরসভা ও জেলা প্রশাসন।