নিজস্ব প্রতিনিধি, কেন্দা:
রাজ্য সরকারের নতুন বিধির জেরে টানা প্রায় দুই মাস ধরে স্তব্ধ পশ্চিমবঙ্গের দেড় শতাধিক পশু হাট। ফলে তীব্র রুটি-রুজির সংকটে পড়েছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। এই পরিস্থিতিতে গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখতে এবং হাটের ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রাখতে এবার একজোট পুরুলিয়া জেলার হাট মালিক ও ব্যবসায়ীরা। হাটের বেহাল দশা দূরীকরণ এবং সেগুলিকে পূর্ণাঙ্গভাবে সচল করার লক্ষ্যে জেলায় গঠিত হলো 'পুরুলিয়া জেলা হাট বাঁচাও সমিতি'।
সম্প্রতি পুরুলিয়ার পুঞ্চা ব্লকের কেন্দা থানার অন্তর্গত তালতলা হাটের ছাড়ঘরে আয়োজিত একটি বিশেষ বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংকট মোচনে আগামী ১৫ই জুলাই পুরুলিয়া জেলা শাসক এবং প্রাণী সম্পদ বিকাশ বিভাগের ডেপুটি ডাইরেক্টরের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার জোরদার প্রস্তুতিও শুরু করেছে এই নতুন সমিতি।
বৈঠকে উপস্থিত বাঁকুড়া জেলা হাট বাঁচাও সমিতির অন্যতম আহ্বায়ক দিলীপ কুন্ডু জানান, "গত ১৩ই মে রাজ্য সরকার আরোপিত পশু জবাই সংক্রান্ত নতুন বিধির কারণে রাজ্যজুড়ে প্রায় ১৫০টিরও বেশি পশু হাট বন্ধ হয়ে রয়েছে"।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন,
টানা দুই মাস হাট বন্ধ থাকায় শুধু হাট মালিকরাই নন, চরম সংকটে পড়েছেন পাইকার, খুচরো ব্যবসায়ী, কামার, কুমার, ছুতার, সবজি ও ফল বিক্রেতা থেকে শুরু করে চারাগাছ বিক্রেতারাও। হাটের সাথে জড়িয়ে থাকা হাজার হাজার সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা আজ সম্পূর্ণ স্তব্ধ।
এই অচলাবস্থা কাটাতে এবং ব্যবসায়ীদের সুরক্ষার দাবিতে পুরুলিয়া জেলার সবকটি হাটের মালিক ও ব্যবসায়ীরা এক ছাতার তলায় এসেছেন। তালতলা হাটের ওই বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে ৯ জন কর্মকর্তা এবং ৩৪ জনের একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়েছে।এদিনের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দিলীপ কুন্ডু ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রানা সিং দেও, তাপস মন্ডল, বুদ্ধেশ্বর বাউরি, জিতেন সিংহ, খগেন চন্দ্র, সীতারাম মাহাতো সহ জেলার একাধিক বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও কর্মীবৃন্দ।
সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১৫ই জুলাই জেলা শাসকের দপ্তরে ডেপুটেশন দেওয়ার পাশাপাশি আগামী দিনে হাটের পরিকাঠামো উন্নয়ন ও ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তার দাবিতে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।