নিজস্ব প্রতিনিধি, রঘুনাথপুর
মোড়ের নাম তাঁর নামে। কিন্তু তিনি ছিলেন না কোনও জনপ্রতিনিধি, শিল্পপতি বা সমাজসেবী। সারা জীবন চা আর চপ বিক্রি করেই রঘুনাথপুরের মানুষের কাছে 'ভোন্দুদা' হয়ে উঠেছিলেন তিনি। সেই মানুষটির মৃত্যুতেই বৃহস্পতিবার স্তব্ধ হয়ে গেল শহরের অন্যতম ব্যস্ত 'ভোন্দুর মোড়'। শোক ও শ্রদ্ধা জানাতে বিকেল ৬টা পর্যন্ত স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে তাঁদের সমস্ত দোকান বন্ধ রাখলেন ব্যবসায়ীরা ।
রঘুনাথপুর শহরের যে মোড় থেকে একদিকে তাঁতিকুলির রাস্তা এবং অন্যদিকে পুরুলিয়া-বাঁকুড়া সড়ক চলে গিয়েছে, সেই জায়গাটি সরকারি নথি থেকে সাধারণ মানুষের মুখ হয়ে গুগল ম্যাপ— সর্বত্রই 'ভোন্দুর মোড়' নামে পরিচিত। আর এই নামের নেপথ্যে রয়েছেন দুর্গাদাস কর, সকলের প্রিয় 'ভোন্দুদা'। গত মঙ্গলবার ৮১ বছর বয়সে রঘুনাথপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নামে রঘুনাথপুর-সহ গোটা এলাকায়।
চা ও চপের ছোট্ট দোকান থেকেই মানুষের সঙ্গে গড়ে উঠেছিল তাঁর নিবিড় সম্পর্ক। বছরের পর বছর সততা, আন্তরিক ব্যবহার এবং হাতের জাদুতে স্বাদু চা চপের জোরে তিনি এমন জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন যে, জীবদ্দশাতেই তাঁর নামেই সরকারি স্বীকৃতি পায় ওই মোড়। স্থানীয়দের মতে, কোনও সাধারণ মানুষের নামে জীবিত অবস্থাতেই সরকারি ভাবে কোনও মোড়ের নামকরণ হওয়া অত্যন্ত বিরল ঘটনা। বৃহস্পতিবার 'রঘুনাথপুর ভোন্দুর মোড় দোকানদার কমিটি'-র উদ্যোগে তাঁর স্মরণে একটি শ্রদ্ধাঞ্জলি সভার আয়োজন করা হয়। সেই উপলক্ষে মোড়ের সমস্ত ব্যবসায়ী স্বেচ্ছায় দোকান বন্ধ রেখে প্রয়াত ভোন্দুদার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।
আজ ভোন্দুদা নেই। কিন্তু রঘুনাথপুরের মানুষের কাছে তিনি শুধু একজন চপ বিক্রেতা নন, শহরের স্মৃতির অংশ। তাই তাঁর অনুপস্থিতিতেও 'ভোন্দুর মোড়' যেন আজও বহন করে চলেছে এক সাধারণ মানুষের অসাধারণ হয়ে ওঠার গল্প।