নিজস্ব প্রতিনিধি, মানবাজার:
ইতিহাসের স্মৃতি আর বর্তমানের সরকারি উদ্যোগ— দুইয়ের মেলবন্ধনে পুরুলিয়ায় পালিত হল হুল দিবস। যে জঙ্গলমহল একসময় সিধো-কানহোদের নেতৃত্বে ভগনাডিহির মাঠে শুরু হওয়া ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে সাঁওতাল বিদ্রোহের সাক্ষী ছিল, সেই মাটিতেই মঙ্গলবার বীর শহিদদের স্মরণে অনুষ্ঠিত হল জেলা প্রশাসনের কর্মসূচি। একই মঞ্চ থেকে উপভোক্তাদের হাতে তুলে দেওয়া হল রাজ্য সরকারের মেগা প্রজেক্ট অন্নপূর্ণা যোজনার অভিজ্ঞানপত্র।
মানবাজার-১ ব্লক সংলগ্ন মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানের সূচনা হয় শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে। সাঁওতাল বিদ্রোহের দুই কিংবদন্তি নেতা সিধো মুর্মু ও কানহো মুর্মুর পাশাপাশি বিরসা মুন্ডা, ফুলো মুর্মু, ঝানু মুর্মু এবং পণ্ডিত রঘুনাথ মুর্মুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান ও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন জেলাশাসক সুধীর কোন্থম, পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ, মানবাজারের বিধায়ক ময়না মুর্মু, বলরামপুরের বিধায়ক জলধর মাহাতো-সহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা।
জাতীয় প্রার্থনা বন্দেমাতরম ও জাতীয় সঙ্গীত জনগণ মন-র মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। বক্তৃতায় হুল বিদ্রোহের ঐতিহাসিক তাৎপর্য, আদিবাসী সমাজের আত্মত্যাগ এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁদের অবদানের কথা তুলে ধরেন উপস্থিত প্রশাসনিক ও জনপ্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধাভোগীদের হাতে অভিজ্ঞানপত্র তুলে দেওয়া। পাশাপাশি আম্বেদকর মেধা পুরস্কার প্রদান করা হয় নির্বাচিত পড়ুয়াদের। একলব্য মডেল রেসিডেন্সিয়াল স্কুলের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় কৃতী ছাত্রছাত্রীদের ল্যাপটপ, ট্যাব এবং ব্যাগ দিয়ে সংবর্ধিত করা হয়।
সারাদিন ধরে চলে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, আদিবাসী লোকসংস্কৃতির নানা উপস্থাপনা এবং ঐতিহ্যবাহী তীরন্দাজি প্রতিযোগিতা।