সাধারণ খবর ব্লক

প্রযুক্তি এবার পাহারাদার, পুরুলিয়ায় ভিবি-জি রামজি প্রকল্পে মাটি কাটলেন মন্ত্রী - বিধায়ক

মন্ত্রী নদীয়ারচাঁদ বাউরি বলেন, "অতীতে এই প্রকল্পে বাংলায় ব্যাপক দুর্নীতি হওয়ার কারণেই কেন্দ্র অর্থ বরাদ্দ বন্ধ করেছিল। তবে এবার নতুন নিয়মে আবার কাজ শুরু হলো। ই-কেওয়াইসি হওয়া প্রত্যেক দরিদ্র মানুষ এই ১২৫ দিনের কাজ পাবেন, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও মজবুত করবে।"
প্রযুক্তি এবার পাহারাদার, পুরুলিয়ায় ভিবি-জি রামজি প্রকল্পে মাটি কাটলেন মন্ত্রী - বিধায়ক

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:

পুরনো দুর্নীতি ও বিতর্কের অধ্যায় সরিয়ে রেখে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ওপর ভর করে পুরুলিয়া জেলা জুড়ে জোরকদমে শুরু হলো ‘ভিবি-জি রামজি’  প্রকল্প। জেলা স্তরের পর এবার ব্লকে ব্লকে এই কাজের সূচনা করা হয়েছে। তবে এবারের বড় চমক হলো কাজের মেয়াদ ১০০ দিন থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ১২৫ দিন, আর দৈনিক মজুরি ২৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৩০০ টাকা।

অতীতে এই ধরণের গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পে ম্যানুয়াল পদ্ধতির সুযোগ নিয়ে ব্যাপক বেনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। একজনের নামে অন্যজনের কাজ করার মতো ঘটনা রুখতে এবার কেন্দ্রীয় সরকার প্রযুক্তির কড়া নজরদারি এনেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শুধুমাত্র ই-কেওয়াইসি  সম্পন্ন জব কার্ড হোল্ডাররাই এই কাজের সুযোগ পাবেন।

কাশিপুরের বিধায়ক কমলাকান্ত হাঁসদা এই প্রযুক্তির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে জানান, "কাজে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবার 'ফেস অথেন্টিকেশন' বা চেহারা যাচাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যার ই-কেওয়াইসি করা থাকবে, তিনি নিজের চেহারার মাধ্যমে নিজেকে যাচাই করেই কাজে যোগ দিতে পারবেন। ফলে ভুয়ো নামের আড়ালে দুর্নীতির কোনো সুযোগ আর থাকবে না।"

সোমবার সাঁওতালডিহি এলাকার উশির গ্রামে হাতে গাঁইতি তুলে নিয়ে মাটি কেটে এই প্রকল্পের পুকুর খনন কাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন রাজ্যের পূর্ত ও অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ বিভাগের রাষ্ট্রমন্ত্রী নদীয়ারচাঁদ বাউরি। উশির গ্রামে স্থিত সাঁওতালডি কলেজের দীর্ঘদিনের জলের সমস্যা মেটাতেই এই পুকুর খননের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী নদীয়ারচাঁদ বাউরি বলেন, "অতীতে এই প্রকল্পে বাংলায় ব্যাপক দুর্নীতি হওয়ার কারণেই কেন্দ্র অর্থ বরাদ্দ বন্ধ করেছিল। তবে এবার নতুন নিয়মে আবার কাজ শুরু হলো। ই-কেওয়াইসি হওয়া প্রত্যেক দরিদ্র মানুষ এই ১২৫ দিনের কাজ পাবেন, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও মজবুত করবে।"

অন্যদিকে, মঙ্গলবার কাশিপুর ব্লকের ধানাড়াতেও একই ভঙ্গিমায় হাতে গাঁইতি নিয়ে মাটি কেটে কাজের সূচনা করেন বিধায়ক কমলাকান্ত হাঁসদা।

জঙ্গলমহলের এই জেলায় এখনও সব শ্রমিকের ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়নি, যা প্রশাসনের কাছে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এই বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন পুরুলিয়ার বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, "সরকার ও প্রশাসনকে কিছুটা সময় দিতে হবে। খুব দ্রুত সমস্ত জব কার্ড হোল্ডার শ্রমিক পরিবারের এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে যাবে।"
মজুরি বৃদ্ধি ও কাজের দিন বাড়ায় জঙ্গলমহলের সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফুটেছে উল্লেখ করে বিধায়ক সুদীপ বাবু আরও যোগ করেন, "আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগামী দিনে এই মজুরি আরও বাড়াবেন। গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করাই বিকশিত ভারতের আসল লক্ষ্য।"