রাজনীতি শহর

রঘুনাথপুর পুরসভায় ৮ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ, মহকুমা শাসকের দপ্তরে বিজেপির ‘লাল ফাইল’

রঘুনাথপুর পুরসভায় প্রায় ৮ কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মহকুমা শাসকের দপ্তরে স্মারকলিপি জমা দিল বিজেপি। শুক্রবার দলের রঘুনাথপুর সাংগঠনিক জেলার নেতৃত্বের একটি প্রতিনিধি দল মহকুমা শাসকের দপ্তরে গিয়ে অভিযোগ-সংবলিত একটি লাল ফাইল জমা দেয়। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের আবেদনও করা হয়েছে।
রঘুনাথপুর পুরসভায় ৮ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ, মহকুমা শাসকের দপ্তরে বিজেপির ‘লাল ফাইল’

 

নিজস্ব প্রতিনিধি,রঘুনাথপুর:


রঘুনাথপুর পুরসভায় প্রায় ৮ কোটি টাকার আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে মহকুমা শাসকের দপ্তরে স্মারকলিপি জমা দিল বিজেপি। শুক্রবার দলের রঘুনাথপুর সাংগঠনিক জেলার নেতৃত্বের একটি প্রতিনিধি দল মহকুমা শাসকের দপ্তরে গিয়ে অভিযোগ-সংবলিত একটি লাল ফাইল জমা দেয়। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের আবেদনও করা হয়েছে।

বিজেপির দাবি, ২০১৫ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে আবাস যোজনা, শৌচালয় নির্মাণ, রাস্তা-ঘাট-সহ একাধিক সরকারি প্রকল্পে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম হয়েছে। দলের অভিযোগ, সরকারি অর্থের অপব্যবহার করে প্রায় ৮ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। এই ঘটনায় রঘুনাথপুর পুরসভার চেয়ারম্যান ও একাধিক কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

রঘুনাথপুর বিজেপি বিধানসভা যুগ্ম আহ্বায়ক কাজল কৃষ্ণ সিনহা বলেন, "বহু বছর ধরে রঘুনাথপুর পুরসভায় দুর্নীতির যে রাজত্ব চলছে, তার অবসান হওয়া দরকার। আমরা চাই কেন্দ্রীয় বা কোনো নিরপেক্ষ এজেন্সি দিয়ে এর পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হোক। এই দুর্নীতির পেছনে তৃণমূলের যে সমস্ত চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলর জড়িত আছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিয়ে অবিলম্বে শ্রীঘরে পাঠানো হোক। অপরাধীরা শাস্তি না পাওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন থামবে না।"


রঘুনাথপুর শহর বিজেপি সভাপতি শান্তনু চট্টোপাধ্যায় জানান, "আমরা কোনো মনগড়া অভিযোগ করছি না। ২০১৫ সাল থেকে আজ পর্যন্ত রঘুনাথপুরের সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকা এবং সরকারি অনুদান কীভাবে নয়ছয় করা হয়েছে, তার সমস্ত প্রমাণ এই লাল ফাইলে রয়েছে। গরিব মানুষের মাথার ছাদ কাড়ার এবং শৌচালয় তৈরির টাকা পকেটে ভরার এই নোংরা খেলা আমরা আর বরদাস্ত করব না। প্রশাসনকে এর নিরপেক্ষ তদন্ত করতেই হবে।"

অন্য দিকে, সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে রঘুনাথপুর পুরসভা চেয়ারম্যান তরণী বাউরি জানান, "বিরোধী দল হিসেবে ওঁদের কাজই হলো কুৎসা রটানো এবং মানুষের মনে বিভ্রান্তি তৈরি করা। আমাদের কোনো ভয় নেই, কারণ আমরা নিয়মের বাইরে গিয়ে এক পয়সাও খরচ করিনি। যেকোনো ধরনের সরকারি বা নিরপেক্ষ তদন্তে আমাদের পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে। তদন্ত হলেই দুধের দুধ আর জলের জল আলাদা হয়ে যাবে এবং প্রমাণিত হবে যে এই অভিযোগগুলো কতটা ভিত্তিহীন।"

বিজেপির অভিযোগ ঘিরে রঘুনাথপুরের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তবে অভিযোগ নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনও মন্তব্য করা হয়নি।