সাধারণ খবর ব্লক শহর

কে অযোগ্য? কে যোগ্য? অন্নপূর্ণা যোজনায় প্রশ্নের মুখে বাছাই প্রক্রিয়া, ক্ষোভ পুরুলিয়া জুড়ে

পুরসভা থেকে ব্লক অফিস। পুরুলিয়া, ঝালদা, বলরামপুর। অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না-পাওয়ার অভিযোগে বিক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ছে শহর ছাড়িয়ে গ্রামেও। অভিযোগ একটাই, আবেদন জমা দিয়েও বহু উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা আসছে না। কেন নাম বাদ গেল, কোথায় আটকে রয়েছে আবেদন, তার স্পষ্ট জবাবও মিলছে না। ফলে ক্ষোভ ক্রমশ তীব্র হচ্ছে।
কে অযোগ্য? কে যোগ্য? অন্নপূর্ণা যোজনায় প্রশ্নের মুখে বাছাই প্রক্রিয়া, ক্ষোভ পুরুলিয়া জুড়ে

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া, ঝালদা ও বলরামপুর:

পুরসভা থেকে ব্লক অফিস। পুরুলিয়া, ঝালদা, বলরামপুর। অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না-পাওয়ার অভিযোগে বিক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ছে শহর ছাড়িয়ে গ্রামেও। অভিযোগ একটাই, আবেদন জমা দিয়েও বহু উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা আসছে না। কেন নাম বাদ গেল, কোথায় আটকে রয়েছে আবেদন, তার স্পষ্ট জবাবও মিলছে না। ফলে ক্ষোভ ক্রমশ তীব্র হচ্ছে।

মঙ্গলবার পুরুলিয়া শহরের ২৩টি ওয়ার্ডের বহু মহিলা পুরসভায় বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের দাবি, কেউ অফলাইনে আবেদন করেছেন, কেউ অনলাইনে, আবার অনেকেই দুই পদ্ধতিতেই আবেদন জমা দিয়েছেন। তবু এক থেকে দু'মাস কেটে গেলেও অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ঢোকেনি। বারবার আবেদনপত্রের অনলাইন স্ট্যাটাস বদলালেও সমস্যার কারণ জানানো হচ্ছে না বলে অভিযোগ। সাইবার ক্যাফে, পুরসভা ও ব্লক অফিসে একাধিক বার যোগাযোগ করেও কোনও সুরাহা হয়নি বলেও দাবি তাঁদের।

বিক্ষোভকারী ফাল্গুনী ঘোষ, অনিমা মাহাতো প্রমুখর অভিযোগ, একই পরিবারের একাধিক মহিলা আবেদন করলেও কারও অ্যাকাউন্টে টাকা এসেছে, আবার কারও আসেনি। কেন এই বৈষম্য, তার উত্তর চেয়ে পুরসভা চত্বরে বিক্ষোভে সামিল হন তাঁরা।

পুরুলিয়া পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসার তাপস কুমার মণ্ডল বলেন, "সরকারি নিয়ম মেনেই সমস্ত আবেদন যাচাই করা হচ্ছে। নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী কাজ চলছে, যাঁরা প্রকল্পের যোগ্য, তাঁরা পর্যায়ক্রমে আর্থিক সহায়তা পাবেন।"

কিন্তু প্রশাসনের এই আশ্বাসে ক্ষোভ থামেনি। একই দিনে ঝালদা ১ নম্বর ব্লক অফিসেও দেখা যায় উপভোক্তাদের দীর্ঘ লাইন। অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন যাচাই ঘিরে সকাল থেকেই ভিড় জমে। মহিলা উপভোক্তাদের পাশাপাশি পুরুষদের জন্যও আলাদা লাইনে অপেক্ষা করতে দেখা যায় বহু মানুষকে।

উপভোক্তা অমিয় গঙ্গোপাধ্যায় স্ত্রীর হয়ে  ভেরিফিকেশনের জন্য এসেছেন। তাঁর অভিযোগ, " আগে স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা মিললেও অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য আবেদন করার পর এখনও পর্যন্ত কোনও টাকা আসেনি। কেন এই বঞ্চনা, তা জানতে এবং সমস্যার সমাধানের আশাতেই ব্লক অফিসে এসেছি। অনেক অযোগ্য ব্যক্তি সুবিধা পাচ্ছেন, অথচ যোগ্যরা বঞ্চিত হচ্ছেন।”

একই অভিযোগ তুলেছেন পারুলবালা মাহাত ও কল্যাণী পরামানিক। তাঁদের বক্তব্য, আবেদন করার পরও টাকা না মেলায় বাধ্য হয়েই ভেরিফিকেশনের জন্য ব্লক অফিসে আসতে হয়েছে। কিন্তু কেন নাম বাদ গেল, তার কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা মেলেনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্লক অফিস চত্বরে মোতায়েন ছিল পুলিশ।

এ দিন বলরামপুর ব্লকেও একই দাবিতে উপভোক্তাদের বিক্ষোভ দেখা যায়। ফলে স্পষ্ট, অন্নপূর্ণা যোজনা ঘিরে অসন্তোষ আর কোনও একটি এলাকা বা পুরসভার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তা ছড়িয়ে পড়ছে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে।

অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী  একাধিকবার জানিয়েছেন, যাঁদের নাম এসআইআর-এ বাদ গিয়েছে, যাঁরা দেশের নাগরিক নন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে শিশুদের পাঠ নিতে পাঠান, সরকারি টিকাকরণে বাধা দেন, তাঁদের বাদে অন্য সকল যোগ্য আবেদনকারী এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। কিন্তু বাস্তবে বহু আবেদনকারীর অভিযোগ, তাঁরা ওই কোনও শ্রেণির মধ্যেই পড়েন না, তবু তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছায়নি।

ফলে প্রশ্ন উঠছে, যোগ্যতার মাপকাঠি ঠিক কী? কোন ভিত্তিতে আবেদন বাতিল হচ্ছে? কেন একই পরিবারের এক জন টাকা পাচ্ছেন, অন্য জন পাচ্ছেন না? প্রশাসনের তরফে এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না মেলায় অসন্তোষ আরও বাড়ছে।