রাজনীতি শহর

"তৃণমূলের পতাকা তলে নয়, আদালতের রায়ে ফিরে আসা পুরুলিয়া পুরসভা কাজ করবে ডবল ইঞ্জিন মডেল মেনে" : নবেন্দু

এবার আর ঘাসফুল শিবিরের অনুগত হয়ে নয়, বরং সম্পূর্ণ স্বাধীন জনপ্রতিনিধি হিসেবেই শহর চালানোর বার্তা দিলেন পদ ফিরে পাওয়া পুরপ্রধান নবেন্দু মাহালী। মঙ্গলবার একটি সাংবাদিক বৈঠক করে আদালতের এই রায় ও তাঁদের আগামী পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

 


সুইটি চন্দ্র, পুরুলিয়া:


দলীয় কোন্দল আর রাজনৈতিক চাপানউতোরের মাঝে শেষমেশ আইনি লড়াইয়ে বড়সড় জয় পেয়েছে পুরুলিয়া পুরসভার অপসারিত বোর্ড। নাগরিক পরিষেবা দিতে ব্যর্থতার অজুহাতে রাজ্য সরকার যে পুরবোর্ড ভেঙে দিয়েছিল, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে তা পুনর্বহাল হতে চলেছে। তবে এবার আর ঘাসফুল শিবিরের অনুগত হয়ে নয়, বরং সম্পূর্ণ স্বাধীন জনপ্রতিনিধি হিসেবেই শহর চালানোর বার্তা দিলেন পদ ফিরে পাওয়া পুরপ্রধান নবেন্দু মাহালী।  মঙ্গলবার একটি সাংবাদিক বৈঠক করে আদালতের এই রায় ও তাঁদের আগামী পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর পানীয় জল ও সাফাইয়ের মতো নাগরিক পরিষেবা দিতে না পারার অভিযোগে পুরুলিয়া পুরসভার বোর্ড ভেঙে দেয় রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর। বসানো হয় প্রশাসক। তবে নবেন্দু মাহালীর দাবি, আসল কারণ ছিল রাজনৈতিক। লোকসভা নির্বাচনে পুরুলিয়ায় তৃণমূলের পরাজয়ের জেরেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে এই বোর্ড ভাঙা হয়েছিল।

এই সিদ্ধান্তকে ‘অন্যায়’ আখ্যা দিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন কাউন্সিলার রবিশঙ্কর দাস এবং পুরপ্রধান নবেন্দু মাহালী। গত ২৩ জুন বিচারপতি রাজা বসুচৌধুরীর বেঞ্চ রাজ্যের সেই নির্দেশিকায় স্থগিতাদেশ দিয়ে পুরনো বোর্ডকেই পুনরায় দায়িত্বভার ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

পুরুলিয়া পুরসভার পুরপ্রধান নব্যেন্দু মাহালি বলেন, এবার আর তৃণমূলের দলীয় রঙ মেখে নয়, বরং পুরবাসীর স্বার্থে কাজ করবেন তাঁরা। এমনকি কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উন্নয়নের ধারণাকে সামনে রেখে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ মডেলের ধাঁচে পুরসভা চালানোর ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি, যা নিয়ে জেলার রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে"।

পুরুলিয়া জেলা বিজেপি কোর কমিটির সদস্য গৌতম রায় বলেন, "আদালতের নির্দেশকে আমরা সম্মান জানাই। তবে বোর্ড ফিরে পেলেই কাজ শেষ হয়ে যায় না। যদি তাঁরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে এবং রাজ্য সরকারের গাইডলাইন মেনে সাধারণ মানুষের স্বার্থে কাজ করেন, তবে ভালো। কিন্তু যদি পুরনো বোর্ডের মতো ফের সরকারি টাকার অপচয় বা নয়ছয় হয়, তবে এই সরকার  নিশ্চিতভাবেই তার খতিয়ান খতিয়ে দেখবে এবং আইনানুগ উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে।"