শিক্ষা শহর

সরকারি শিক্ষকদের টিউশন বন্ধের দাবিতে ডিআই অফিসে ডেপুটেশন

সরকারি বেতনভোগী শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন বন্ধ করতে হবে। এই দাবি তুলে শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কারের দাবিতে সরব হলেন জেলার গৃহশিক্ষকেরা। সরকারি আইন এবং আদালতের কড়া নির্দেশিকাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে স্কুল শিক্ষকদের গৃহশিক্ষকতা করার প্রবণতার বিরুদ্ধে পুরুলিয়ায় জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের (ডিআই) কার্যালয়ে একটি গণ-ডেপুটেশন দিল প্রাইভেট টিউটরস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন।
সরকারি শিক্ষকদের টিউশন বন্ধের দাবিতে ডিআই অফিসে ডেপুটেশন

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:

সরকারি বেতনভোগী শিক্ষকদের প্রাইভেট টিউশন বন্ধ করতে হবে। এই দাবি তুলে শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কারের দাবিতে সরব হলেন জেলার গৃহশিক্ষকেরা। সরকারি আইন এবং আদালতের কড়া নির্দেশিকাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে স্কুল শিক্ষকদের গৃহশিক্ষকতা করার প্রবণতার বিরুদ্ধে পুরুলিয়ায় জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের (ডিআই) কার্যালয়ে একটি গণ-ডেপুটেশন দিল প্রাইভেট টিউটরস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন।

সংগঠনের অভিযোগ, সরকারি ও সরকার-পোষিত বিদ্যালয়ের একশ্রেণির শিক্ষক ক্লাসরুমের পড়াশোনাকে গুরুত্ব না দিয়ে মোটা টাকার বিনিময়ে ব্যক্তিগত টিউশনকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। এর ফলে একদিকে যেমন বিদ্যালয়ভিত্তিক শিক্ষার পরিবেশ পুরোপুরি নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে তেমনই সাধারণ ও পিছিয়ে পড়া পরিবারের শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে এসে সঠিক পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এই অচলাবস্থা কাটিয়ে জেলার সাধারণ পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে প্রশাসনের কাছে মূলত ৪ দফা দাবি পেশ করেছে সংগঠনটি,

প্রথমত, সরকারি ও সরকার-পোষিত বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সমস্ত রকম ব্যক্তিগত টিউশন বা কোচিং বাণিজ্য অবিলম্বে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে।
দ্বিতীয়ত, স্কুলগুলিতে নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদানের পাশাপাশি বিজ্ঞানসহ অন্যান্য বিষয়ের ব্যবহারিক বা প্র্যাক্টিক্যাল শিক্ষার কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে পড়ুয়াদের বাইরে প্রাইভেট টিউশনের ওপর নির্ভর না করতে হয়।
তৃতীয়ত, শিক্ষাব্যবস্থার ঘাটতি মেটাতে প্রতিটি বিদ্যালয়ে সকল বিষয়ে পর্যাপ্ত সংখ্যক স্থায়ী বা পূর্ণকালীন শিক্ষক দ্রুত নিয়োগ করতে হবে।
চতুর্থত, মুখের কথা নয়, শিক্ষার মানোন্নয়নের স্বার্থে গ্রামীণ ও শহরের সরকারি স্কুলগুলির পরিকাঠামোগত আধুনিকীকরণ নিশ্চিত করতে হবে।

অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের মতে, এই আন্দোলন কেবল প্রাইভেট টিউটরদের স্বার্থে নয়, বরং সরকারি স্কুলের শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাঁচানোর লড়াই। স্কুল স্তরের শিক্ষাকে আরও স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল এবং শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক করে তুলতেই প্রশাসনের এই জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে।
ডিআই অফিসের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে ।