ক্রাইম ব্লক

রাতের অন্ধকারে ব্লকেই অন্নপূর্ণা যোজনায় কারসাজি? ২ তৃণমূল নেতা সহ ৪ জনের বিরুদ্ধে পুঞ্চা কাণ্ডে কী অভিযোগ বিডিওর?

ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলার রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, সরকারি প্রকল্পের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
রাতের অন্ধকারে ব্লকেই অন্নপূর্ণা যোজনায় কারসাজি? ২ তৃণমূল নেতা সহ ৪ জনের বিরুদ্ধে পুঞ্চা কাণ্ডে কী অভিযোগ বিডিওর?

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুঞ্চা:

সরকারি অফিসের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও অনুমতি ছাড়া ব্লক অফিস চত্বরে প্রবেশ ও অবস্থান করার অভিযোগে পুঞ্চা পঞ্চায়েত সমিতির দুই পদাধিকারী-সহ চারজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন পুঞ্চার বিডিও দীপ চট্টোপাধ্যায়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুঞ্চা থানার পুলিশ। বুধবার ধৃতদের পুরুলিয়া আদালতে তোলা হয়।

বিডিওর অভিযোগ অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত প্রায় ৯টা নাগাদ তিনি খবর পান যে, সরকারি দফতরের কাজের সময় শেষ হয়ে যাওয়ার পরও দু'জন ব্যক্তি বিডিও অফিস চত্বরে প্রবেশ করেছেন এবং অফিসের গেস্ট হাউসে রয়েছেন। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি পুঞ্চা থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিককে খবর দেন তিনি। পুলিশের উপস্থিতিতে গেস্ট হাউসে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে বসে রয়েছেন পুঞ্চা পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ চরণপাহাড়ি দাস, সহ-সভাপতি কৃপাসিন্ধু বন্দ্যোপাধ্যায়  এবং লাখরা গ্রাম পঞ্চায়েতের এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট গৌতম দাস। উপস্থিত কয়েকজনের অভিযোগের ভিত্তিতে বিডিও তাঁর লিখিত অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, পঞ্চায়েত সমিতির এডুকেশন অফিসার সুমিত কুণ্ডুও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

বিডিওর বক্তব্য, সরকারি অফিসে নির্ধারিত সময়ের পরে তাঁর অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করা আইনত অনধিকার প্রবেশের শামিল। তাই বিষয়টির তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি পুলিশের কাছে আবেদন জানান।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার রাতেই পুঞ্চা ব্লক অফিসে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা ব্লক অফিসে পৌঁছে অভিযুক্তদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের অভিযোগ, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের উপভোক্তাদের তথ্যভাণ্ডারে বেআইনিভাবে পরিবর্তন করে সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের তালিকায় কারচুপির চেষ্টা চলছিল। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশাসন এখনও মুখ খোলেনি।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। পরে অভিযুক্তদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। রাতেই বিডিওর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে চারজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বুধবার তাঁদের আদালতে পেশ করা হয়।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলার রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, সরকারি প্রকল্পের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে, অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।