নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
কখনও নদীয়া, কখনও উত্তর দিনাজপুর, আবার কখনও পুরুলিয়া খাকি উর্দির ভুয়ো পরিচিতি ব্যবহার করে একের পর এক জেলায় জাল বিছিয়েছিল এক সুচতুর প্রতারক চক্র। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না। খোদ থানার ‘মেজো বাবু’ সেজে এক মানি ট্রান্সফার এজেন্টের থেকে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে অবশেষে দুই প্রতারককে গ্রেফতার করল পুরুলিয়া সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ।
ধৃতদের নাম সাগর বল্লভ ,বাড়ি নদীয়ার ধানতলা এবং সুবোধ বর্মন,বাড়ি উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ। শনিবার ধৃতদের পুরুলিয়া জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের ৩ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১১ জুন। পুরুলিয়ার পাড়া পোস্ট অফিসের সামনে একটি মানি ট্রান্সফারের দোকান চালান মেহমুদ আনসারী নামের এক যুবক। ওই দিন হঠাৎই তার ফোনে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে কল আসে। ফোনের ওপার থেকে গম্ভীর গলায় নিজেকে 'পাড়া থানার মেজো বাবু' বলে পরিচয় দেওয়া হয়।
ফোনে মেহমুদকে বলা হয়, একটি বিশেষ প্রয়োজনে জরুরি ভিত্তিতে তার অ্যাকাউন্টে ১ লক্ষ ১৬ হাজার টাকা পাঠাতে হবে। বিশ্বাস অর্জনের জন্য আরও বলা হয়, টাকা পাঠানোর পর মেহমুদ যেন তার কোনো বিশ্বস্ত মানুষকে থানায় পাঠান, সেখান থেকে নগদে টাকাটা ফেরত দিয়ে দেওয়া হবে।
পুলিশ আধিকারিকের নির্দেশ ভেবে কোনো সন্দেহ না করেই দুই দফায় পুরো টাকাটাই পাঠিয়ে দেন মেহমুদ। কিন্তু আসল টুইস্ট আসে এর পরেই।
টাকা পাঠানোর পর মেহমুদ তার এক পরিচিতকে পাড়া থানায় পাঠান নগদ টাকা ফেরত আনতে। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ থানার বাইরে অপেক্ষা করার পরও যখন কোনো যোগাযোগ করা যায়নি, তখন খোদ মেহমুদ পাড়া থানায় পৌঁছান। আর সেখানেই খসে পড়ে প্রতারকদের মুখোশ।মেহমুদ জানতে পারেন, পাড়া থানায় ওই নামে কোনো পুলিশ আধিকারিকই কর্মরত নন।
যে নম্বর থেকে ফোন এসেছিল তার সাথে থানার দূর-দূরান্তের কোনো সম্পর্ক নেই।
প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে গত ২১ জুন পুরুলিয়া সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মেহমুদ।মামলা হাতে নিয়েই তদন্তে নামে সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ। ফোনের লোকেশন এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সূত্র ধরে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, এই চক্রের জাল ছড়িয়ে রয়েছে রাজ্যের অন্যান্য জেলাতেও।
পুলিশ সূত্রে খবর, পুরুলিয়ার এই ঘটনার আগেও নদীয়া জেলার ধানতলা থানা এলাকায় ঠিক একইভাবে খাকি উর্দির ভুয়ো পরিচয় দিয়ে অপরাধ ঘটিয়েছিল এই সাগর ও সুবোধ। সেই মামলায় ইতিমধ্যেই তারা নদীয়া পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে জেল হেফাজতে ছিল। পুরুলিয়া সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ সেখান থেকেই ‘প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট’-এর মাধ্যমে এই দুজনকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে আসে।
এই চক্রের সাথে আর কারা যুক্ত এবং নদীয়া-পুরুলিয়ার বাইরেও রাজ্যের অন্য কোথাও এরা এভাবে বড়ো, মেজো, সেজো বাবু সেজে জাল বিছিয়েছে কি না, তা জানতে ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে সাইবার থানার পুলিশ।