সাধারণ খবর

আন্দোলনের চাপে আপাতত বন্ধই থাকছে ডিভিসি সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প

সাংসদ জানিয়েছেন, "আন্দোলনকারী ও প্রশাসনের যৌথ পর্যালোচনার মাধ্যমে যত দিন না কোনো স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য সমাধানসূত্র বেরোচ্ছে, তত দিন সোলার প্রোজেক্টের সমস্ত কাজ স্থগিত রাখা হোক।"
আন্দোলনের চাপে আপাতত বন্ধই থাকছে ডিভিসি সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:

উচ্ছেদ, জীবিকা ছিনিয়ে নেওয়া এবং ডিভিসি  কর্তৃপক্ষের একতরফা নিয়মের বেড়াজালে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়াল প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধি। সাধারণ মানুষের দাবিকে মান্যতা দিয়ে, চূড়ান্ত কোনো রফাসূত্র না হওয়া পর্যন্ত পাঞ্চেতের বিতর্কিত সোলার প্রোজেক্টের কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার পরামর্শ দিলেন পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো ।

সম্প্রতি পুরুলিয়া জেলাশাসক দপ্তরে আয়োজিত একটি হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুরুলিয়ার সাংসদের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই মেগা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক, পুরুলিয়া ও রঘুনাথপুরের মহকুমা শাসক , ডিভিসির উচ্চপদস্থ আধিকারিক এবং সোলার প্রোজেক্ট বিরোধী যৌথ আন্দোলনকারী কমিটির প্রতিনিধিরা।

বৈঠকে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে ডিভিসি কর্তৃপক্ষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার খতিয়ান তুলে ধরে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয় সাংসদ ও জেলাশাসকের কাছে। আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি  পুনর্বাসন ও বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা না করে মৎস্যজীবীদের পেটে লাথি মেরে কোনো সোলার প্রোজেক্ট করতে দেওয়া হবে না।

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, ১৯৫২ সালে ডিভিসি-র জন্য উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলিকে আজও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও চাকরি দেওয়া হয়নি। অবিলম্বে তাদের পুনর্বাসন দিতে হবে।ডিভিসির কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি ফান্ড ব্যবহার করে স্থানীয় এলাকায় সড়ক, সেতু, হাসপাতাল, স্কুল এবং উন্নত সেচ ব্যবস্থার মতো পরিকাঠামো তৈরি করতে হবে।

বাস্তুহারা-মৎস্যজীবী ও গণসংগ্রাম কমিটির পক্ষে পরেশ মারাণ্ডী, প্রকৃতি বাঁচাও ও আদিবাসী বাঁচাও মঞ্চের রাজেন টুডু, দামোদর ভ্যালি বাস্তুহারা সংগ্রাম সমিতির মুক্তার আনসারী, জমি রক্ষা কমিটির বিপ্লব মারাণ্ডী এবং সেতু নির্মাণ ও মৎস্যজীবী জীবন-জীবিকা রক্ষা কমিটির মহম্মদ আফজলরা সম্মিলিতভাবে এই দাবিদাওয়া পেশ করেন।

বৈঠকে ডিভিসির জলস্তর নীতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন আন্দোলনকারীরা। তাদের অভিযোগ, কোনো ক্ষতিপূরণ না দিয়েই প্রতি বছর ডিভিসি জলস্তর ৪২৫ লেভেল থেকে বাড়িয়ে ৪৩৫ লেভেলে নিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে বিস্তীর্ণ এলাকার চাষের ফসল নষ্ট হচ্ছে, পুকুর-বাঁধের মাছ ভেসে যাচ্ছে এবং গবাদি পশুর চারণভূমি জলের তলায় তলিয়ে যাচ্ছে।

ডিভিসির একটি অদ্ভুত নিয়ম নিয়ে বৈঠকে চরম উত্তেজনা ছড়ায়। নিয়ম অনুযায়ী জলস্তর ৪২৫ লেভেলের উপরে টানা ৭২ ঘণ্টার বেশি থাকলে তবেই ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়, অন্যথায় নয়। এই নিয়ম কোন আইনের ভিত্তিতে তৈরি, ডিভিসি কর্তৃপক্ষের কাছে তার কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে।

তুঘলকি নিয়মের এখানেই শেষ নয়। রাত ১০টার পর পাঞ্চেত ড্যামের ব্যারেজের ওপর দিয়ে সাধারণ মানুষের যাতায়াত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে দিয়েছে ডিভিসি। এর ফলে আপৎকালীন বা চিকিৎসার মতো জরুরি প্রয়োজনে স্থানীয় মানুষকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। এই বিষয়ে তীব্র উষ্মা প্রকাশ করেন স্বয়ং সাংসদ। তিনি ডিভিসি কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন, কোন সরকারি নির্দেশনামা বা সুরক্ষাবিধির ওপর ভিত্তি করে এই নৈশকালীন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে, তা অবিলম্বে প্রশাসনকে দেখাতে হবে।

বৈঠকের নির্যাস একটাই, জোর করে বা স্থানীয় মানুষকে অন্ধকারে রেখে কোনো প্রকল্প চাপানো চলবে না। সাংসদ জানিয়েছেন, "আন্দোলনকারী ও প্রশাসনের যৌথ পর্যালোচনার মাধ্যমে যত দিন না কোনো স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য সমাধানসূত্র বেরোচ্ছে, তত দিন সোলার প্রোজেক্টের সমস্ত কাজ স্থগিত রাখা হোক।"