নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝালদা:
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া এবং সাইক্লোনের জেরে মুষলধারে বৃষ্টি সবকিছুকে একপাশে সরিয়ে রেখে মনসা পুজো উপলক্ষে এক অনন্য আবহে মেতে উঠল পুরুলিয়ার ঝালদা। দুর্যোগের জলছবি ভেস্তে দিতে পারেনি ভক্তদের উদ্দীপনাকে। বিশেষ করে, ঝালদা স্টেশনপাড়ার কৈবর্ত সমাজের শতাব্দী প্রাচীন বড় মনসা মন্দিরকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এক অকৃত্রিম ভক্তি ও আবেগের পরিবেশ। আবহাওয়ার চোখ রাঙানিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সেখানে চিরাচরিত ঐতিহ্য মেনেই পালিত হচ্ছে পুজো।
মনসা দেবীর সঙ্গে এই মন্দিরে একাসনে পূজিত হন গণেশ, লক্ষ্মী, সরস্বতী ও কার্তিক। তিন দিনব্যাপী উৎসবের আবহে উপবাস, ঘট স্থাপন ও ঐতিহ্যবাহী পান্না ব্রতের মধ্য দিয়ে পূজার নানা নিয়ম পালিত হচ্ছে। কৈবর্ত সমাজের একটা বড় অংশের কাজ রাতের অন্ধকারে নদী-নালা ও জলাশয়ে গিয়ে মাছ ধরা। ফলে, সাপের ছোবল বা নানা বিষধর প্রাণীর বিপদ এড়াতে এবং পরিবারের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এই মনসা পুজো তাঁদের জীবনের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ।
যদিও এটি মূলত কৈবর্ত সমাজের ঐতিহাসিক পুজো, তবে সময়ের সাথে সাথে তা আর কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা সমাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সব ধর্মের এবং সকল বর্ণের মানুষের মেলবন্ধনে এটি এক সামাজিক উৎসবে রূপ নিয়েছে। প্রকৃতির বাঁধা পেরিয়ে সাধারণ মানুষের এই সতস্ফূর্ত যোগদানকেই মূল শক্তি হিসেবে দেখছেন উদ্যোক্তারা।
কমিটির সদস্য রামু কৈবর্ত ও সাবিত্রী কৈবর্ত জানান, "পুরুলিয়ার ঘরে ঘরে মনসা পুজোর একটা আলাদা মাহাত্ম্য রয়েছে। কেউ ঘরে ঘট বসিয়ে পুজো করেন, আবার অনেকে প্রতিমা এনে আরাধনা জানান। কৈবর্ত সমাজের মানুষদের জীবিকার খাতিরে রাতের অন্ধকারে জলাশয়ে নামতে হয়, তাই পরিবারের মঙ্গল এবং সাপের দংশন থেকে মুক্তির কামনায় মা মনসার চরণে প্রার্থনা জানান নারী-পুরুষরা। এবার সাইক্লোনের বৃষ্টিতে কিছুটা সমস্যা তৈরি হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু ভক্তদের ভক্তি আর আনন্দে বিন্দুমাত্র ঘাটতি পড়েনি। আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলেও পুজো তার নিজস্ব ঐতিহ্য মেনেই ধুমধাম করে করা হচ্ছে।"