নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া :
টানা চার বার রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেন পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো। অন্য দিকে, রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতি হলেন দলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথ পেরিয়ে এবার পদ্ম শিবিরের রাজ্য স্তরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেলেন বিদ্যাসাগর।
পদ্ম শিবিরে তাঁর রাজনৈতিক উত্থান একেবারে নিচু তলা থেকে। ১৯৯৬ সালে বুথ কর্মী হিসাবে বিজেপিতে যোগ। তার পরে অঞ্চল, মণ্ডল হয়ে জেলা নেতৃত্ব। এক সময় ছিলেন।দলের জেলা সভাপতি। সেই সময় পুরুলিয়ায় বিজেপি সংগঠনের কার্যত অস্তিত্বই ছিল না সেই সংগঠনকে ধরে রাখার পাশাপাশি ধীরে ধীরে বিস্তারের কাজও করেছেন বিদ্যাসাগর। ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন পুরুলিয়ায় বিজেপির সংগঠনের ছবিটাই বদলে দেয়। কঠিন সেই পরিস্থিতিতে সংগঠনের পাশে থেকে কাজ চালিয়ে যান বিদ্যাসাগর। জেলা সভাপতি হিসাবে তাঁর নেতৃত্বে সংগঠন ধীরে ধীরে শক্তি বাড়ায়। জয়পুর, আড়শা, বলরামপুরে শহীদ হন একের পর এক বিজেপি কর্মী। জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিজেপির ফল হয় আশাতীত। ২০১৯ এ পুরুলিয়া লোকসভায় রেকর্ড মার্জিনে জেতে বিজেপি।
জীবনের একটি পর্যায়ে ঈশ্বর আরাধনার দিকে ঝোঁকার সময়েই বিজেপির রথযাত্রা প্রভাবিত করে বিদ্যাসাগরকে। লালকৃষ্ণ আডবাণীর নেতৃত্বে বিজেপির উত্থান এবং হিন্দুত্বের রাজনীতি তাঁকে পদ্ম শিবিরের প্রতি আরও আকৃষ্ট করে। তার পর থেকেই বিজেপিকে ঘিরেই তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা। সেই যাত্রাপথে এবার বড় পুরস্কার। রাজ্যে পালাবদলের পরই বিদ্যাসাগরকে রাজ্য সহ-সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হলো।
রাজ্য রাজনীতিতে পুরুলিয়ার গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। দিন কয়েক আগে সেকথা প্রকাশ্যে বলেও গেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্য বিজেপির সহ সভাপতি বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী বলেন, বিজেপি করতে গিয়ে পুরুলিয়ার মানুষের সংগ্রাম রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী খুব কাছ থেকে দেখেছেন। সে কারণেই এমন মন্তব্য করে গেছেন তিনি।
বিদ্যাসাগর চক্রবর্তী আরও বলেন, "দল যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা যথাযথ পালনের চেষ্টা করে যাব।"
এর আগে বিজেপির রাজ্য কার্যনির্বাহী কমিটিতে ঠাঁই পেয়েছেন পুরুলিয়ার ৮ বিজেপি নেতা নেত্রী। শুধু তাই নয় রাজ্য সংগঠনকে ৯ টি বিভাগে বিভক্ত করেছে বিজেপি। পুরুলিয়ার নামে একটি বিভাগ। সেই বিভাগের অন্তর্গত বিজেপির পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বিষ্ণুপুর ও আসানসোল সাংগঠনিক জেলা। এই বিভাগের আহ্বায়ক বড়জোড়ার বিধায়ক তথা বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার প্রাক্তন সভাপতি বিলেশ্বর সিংহ এবং বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার প্রাক্তন সভাপতি সুনীল রুদ্র মণ্ডল।