সুইটি চন্দ্র, পুরুলিয়া:
পুরুলিয়া শহরের রবীন্দ্রভবনে রবিবার আয়োজিত হল এক গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সম্মেলন। জঙ্গলমহলের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে পুরুলিয়া জেলার বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতাদের নিয়ে আয়োজিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ১৪টি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সমাজপতিরা। তবে আমন্ত্রণ জানানো হলেও এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিল না 'ভারত জাকাত'। সম্মেলনে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিকভাবে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
বৈঠকে অংশ নেওয়া বিভিন্ন সমাজপতিরা জঙ্গলমহলের নানা অভাব-অভিযোগ ও দাবি-দাওয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর হাতে লিখিত স্মারকলিপি তুলে দেন। মুখ্যমন্ত্রী সেই সমস্ত দাবি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করেন। প্রতিটি স্মারকলিপি ‘শব্দে শব্দে’ পড়ে তা রাজ্য, জেলা বা কেন্দ্রীয় সরকারের এক্তিয়ারভুক্ত কি না, তা পর্যালোচনার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সকল সমাজপতিদের নবান্নে পরবর্তী আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানান। কোনো জনপ্রতিনিধিকে নয়, বরং সামাজিক সংগঠনের নেতাদের মূল মঞ্চে বসিয়ে সম্মান জানানো এবং বাকিদের সাধারণ আসনে রাখার এই প্রশাসনিক পদক্ষেপকে উপস্থিত সকলেই একটি নতুন ও ভিন্ন পরম্পরা বলে অভিহিত করেন।
এ বিষয়ে পুরুলিয়া জেলা বিজেপি সভাপতি শঙ্কর মাহাতো বলেন, "জঙ্গলমহলের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য ও পুরুলিয়া জেলার সামাজিক নেতাদের সম্মান জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী যে সম্মেলন করেছেন, তা অত্যন্ত সফল ও সর্বজনগ্রাহ্য হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর অভাব-অভিযোগ গ্রহণ, লিখিত দাবি বিস্তারিত পড়ে পর্যালোচনার প্রতিশ্রুতি এবং নবান্নে আলোচনার আমন্ত্রণের পাশাপাশি মঞ্চে কেবল সমাজপতিদের বসিয়ে সম্মান জানানোর প্রক্রিয়াটি প্রশংসা যোগ্য।"
পশ্চিমবঙ্গ বাউরী সমাজ কল্যাণ সমিতির রাজ্য প্রেসিডেন্ট সোমনাথ বাউরি মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের অভিজ্ঞতাকে ইতিবাচক অ্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, "বাউরি কালচার বোর্ডের নিষ্ক্রিয়তার কথা শুনে মুখ্যমন্ত্রী দ্রুত আশ্বাস দিয়েছেন এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন"।
পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী ভূমিজ মুণ্ডা কল্যাণ সমিতিররাজ্য সম্পাদক লক্ষ্মীনারায়ণ সিংহ সর্দার বলেন,
"সংগঠনের পক্ষ থেকে কুড়মি সমাজকে এসটি তালিকাভুক্ত করার দাবির তীব্র বিরোধিতা করে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ভুয়ো এসটি সার্টিফিকেট বন্ধ করা, বন্ধ থাকা ভূমিজ উন্নয়ন পর্ষদ ও এসটি হোস্টেল পুনরায় চালু এবং ২০০৬ সালের বন অধিকার আইন কার্যকর করার দাবি জানানো হয়"।
তিনি আরও জানান, মুখ্যমন্ত্রী বিষয়গুলি গুরুত্ব দিয়ে জেলাশাসককে ১৫ দিনের মধ্যে আলোচনার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া কুড়মালি ভাষাকে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্তিতে আপত্তি না জানালেও, ভূমিজ ও মুণ্ডারী ভাষাকে রাজ্যের দ্বিতীয় ভাষা এবং শিডিউলড ল্যাঙ্গুয়েজের মর্যাদা দেওয়ার দাবি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পেশ করা হয়েছে।
সামাজিক ও আঞ্চলিক নানা দাবি-দাওয়া নিয়ে প্রশাসনিক শীর্ষপর্যায়ের এই সরাসরি আলোচনায় জঙ্গলমহলের সামাজিক সংগঠনগুলোর মধ্যে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছেছে।