নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
সামাজিক মাধ্যমকে হাতিয়ার করে শহরের বুকে সক্রিয় প্রতারণাচক্র। নামী প্রতিষ্ঠানে চাকরির মিথ্যা টোপ ফেলে এক যুবকের থেকে দফায় দফায় লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠল একটি সুসংগঠিত দলের বিরুদ্ধে। চক্রের জালে পা দিয়ে প্রায় ১ লক্ষ ১৫ হাজার ৩৪৩ টাকা খোয়ানো এই ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন পুরুলিয়া শহরের রেনি রোডের বাসিন্দা শুভঙ্কর মোদক। রবিবার রাতে তিনি পুরুলিয়া সদর থানার দ্বারস্থ হয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রের খবর, ঘটনার সূত্রপাত নেটপাড়ার এক আলাপ ঘিরে। সামাজিক মাধ্যমে এক নারীর সাথে প্রথমে যোগাযোগ হয় ওই যুবকের। বিনিময়ের পরেই চাকরির আকর্ষণীয় সুযোগের কথা বলে শুভঙ্করকে প্রলুব্ধ করা হয়। বিশ্বাস অর্জনের পর দৃশ্যপটে হাজির হয় আরও তিন সদস্য যার মধ্যে দুজন মহিলা ও একজন পুরুষ। এই চক্রটি একটি ভুয়ো অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার তৈরি করে যুবকের হাতে তুলে দেয়, যা সম্পূর্ণ আসল বলে দাবি করা হয়েছিল।
ভুয়ো নিয়োগপত্রটি হাতিয়ার করেই ভুয়ো প্রসেসিং ফি, ভেরিফিকেশন চার্জসহ একাধিক বাহানায় অনলাইন মারফত টাকা হাতানো শুরু হয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দফায় দফায় মোট ১,১৫,৩৪৩ টাকা সাইবার প্রতারকদের অ্যাকাউন্টে জমা করেন শুভঙ্কর। কিন্তু নিয়োগপত্রের সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে ও পরবর্তীতে অভিযুক্তদের টালবাহানায় তিনি বুঝতে পারেন যে একটি নিখুঁত প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়েছেন।
অভিযোগ পেতেই তৎপরতা শুরু করেছে পুরুলিয়া সদর থানার পুলিশ। ঘটনাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে অবিলম্বে একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। সাইবার বিশেষজ্ঞদের সাহায্যে প্রতারকদের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট ট্র্যাক করার কাজ শুরু হয়েছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক লক্ষ্য যে অনলাইন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলোতে টাকা পাঠানো হয়েছে সেগুলির উৎস খুঁজে বার করা, কল ডিটেইলস রেকর্ড খতিয়ে দেখা এবং উদ্ধার হওয়া ভুয়ো নিয়োগপত্রটির আইনি বিশ্লেষণ করা। পুলিশ আশা করছে, এই অনলাইন সিন্ডিকেটের নেপথ্যে থাকা তিন মহিলা ও পুরুষ সহযোগীকে দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।