শহর

রঘুনাথপুর পুরসভায় দুর্নীতি? তদন্তে রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখা

দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকদের উপস্থিতিতে ২০১১ সাল থেকে শেষ কর্মদিবস পর্যন্ত সমস্ত নথি পর্যালোচনা করা হয়। পুরো বিষয়টি বর্তমানে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। আপাতত আগামী কয়েকদিন টানা এই তদন্ত প্রক্রিয়া চলবে বলে জানা গিয়েছে।
রঘুনাথপুর পুরসভায় দুর্নীতি? তদন্তে রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখা

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, রঘুনাথপুর:

রঘুনাথপুর পুরসভার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এক প্রাক্তন আধিকারিকের বিরুদ্ধে ভুয়া পদ ব্যবহার, সই জালিয়াতি এবং বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে আর্থিক অনিয়মের গুরুতর অভিযোগের তদন্তে নামল রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখা । বুধবার কলকাতা থেকে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল রঘুনাথপুর পুরসভায় এসে টানা সাত ঘণ্টা ধরে নথিপত্র খতিয়ে দেখে।

ঘটনার সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরসভার নিয়োগ তালিকা অনুযায়ী ওই পদে সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার  হিসেবে কাজ করার কথা থাকলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার পরিচয় দিয়ে সেই পদ ও অফিশিয়াল স্ট্যাম্প দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করে আসছিলেন। পুরসভা সূত্রে খবর, রঘুনাথপুর পুরসভাটি 'ই' ক্যাটাগরির হওয়ায় সেখানে অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারের কোনো অনুমোদিত পদই নেই। পরবর্তীতে পুরসভার  এগজিকিউটিভ অফিসার  বিষয়টি খেয়াল করে ওই আধিকারিককে অফিশিয়াল স্ট্যাম্প ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন এবং উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের বিষয়টি অবহিত করেন।

রঘুনাথপুর পুরসভার চেয়ারম্যান তরণী বাউরি‌ বলেন, "জেলা ও রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখার প্রতিনিধিরা সকাল ১১টা নাগাদ আসেন এবং পুরো বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান চালান। আমাদের পুরসভার পক্ষ থেকে সমস্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রদান করে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করা হচ্ছে।"

রঘুনাথপুর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান ভবেশ চট্টোপাধ্যায় বলেন, "২০০৯ থেকে দীর্ঘ সময় ধরে উনি নিজেকে অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে পরিচয় দিতেন। ২০১৫ সালে আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর জেলা শাসক স্থানীয় থানা ও এসডিও অফিস থেকে চিঠি আসার পর বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করি। পুরসভার কোনো পার্মানেন্ট পোস্ট বা অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ করার এক্তিয়ার চেয়ারম্যানের থাকে না। তা সম্পূর্ণ নির্দেশিকা ও নিয়ম মেনে হয়। মিসগাইডেড করার ফলে সেসময় কাজের সূত্রে সই করা হয়েছিল, তবে পুরো বিষয়টি বর্তমানে আইন ও তদন্তের পথেই এগোচ্ছে।"

দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকদের উপস্থিতিতে ২০১১ সাল থেকে শেষ কর্মদিবস পর্যন্ত সমস্ত নথি পর্যালোচনা করা হয়। পুরো বিষয়টি বর্তমানে হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। আপাতত আগামী কয়েকদিন টানা এই তদন্ত প্রক্রিয়া চলবে বলে জানা গিয়েছে।