ক্রাইম শহর

তপন কান্দু হত্যার পর ঝালদা থানায় আগুন, ৭ অভিযুক্ত বেকসুর খালাস

২০২২ সালে বহু চর্চিত ঝালদা পুরাতন থানায় অগ্নিসংযোগ মামলায় অভিযুক্ত ঝালদা পৌরসভার কংগ্রেস কাউন্সিলর বিপ্লব কয়াল সহ মোট ৭ জনকেই সম্পূর্ণ বেকসুর মুক্তির আদেশ দিলেন পুরুলিয়া জেলা আদালতের অতিরিক্ত জেলা দায়রা বিচারক।
তপন কান্দু হত্যার পর ঝালদা থানায় আগুন, ৭ অভিযুক্ত বেকসুর খালাস

 


নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝালদা:

আন্দোলন ও প্রতিবাদের কণ্ঠকে স্তব্ধ করতে কি সাজানো হয়েছিল ঝালদা থানা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মামলা? পুরুলিয়া জেলা আদালতের থার্ড কোর্টের রায় শেষ পর্যন্ত সেই সত্যই সামনে এলো। ২০২২ সালে বহু চর্চিত ঝালদা পুরাতন থানায় অগ্নিসংযোগ মামলায় অভিযুক্ত ঝালদা পৌরসভার কংগ্রেস কাউন্সিলর বিপ্লব কয়াল সহ মোট ৭ জনকেই সম্পূর্ণ বেকসুর মুক্তির আদেশ দিলেন পুরুলিয়া জেলা আদালতের অতিরিক্ত জেলা দায়রা বিচারক।

দীর্ঘ ৪ বছর ধরে চলা আইনি লড়াইয়ের পর আদালতের এই নির্দেশে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন বেকসুর খালাস পাওয়া ব্যক্তিরা। ঘটনার সূত্রপাত ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে। ঝালদা পৌরসভার তৎকালীন কংগ্রেস কাউন্সিলর তপন কঁদু নৃশংসভাবে খুন হন। খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে সমগ্র ঝালদা। ১১ই এপ্রিল ঝালদা পুরনো পুলিশ থানায় অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনায় ঝালদা থানার পুলিশ কংগ্রেস কাউন্সিলর বিপ্লব কয়াল সহ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করে।

ঝালদা পুরসভার কংগ্রেস কাউন্সিলর বিপ্লব কয়াল বলেন,"তপন কান্দু হত্যার ন্যায়বিচার চেয়ে যারা সেদিন রাজপথে নেমেছিলেন, তাদের প্রতিবাদী কণ্ঠকে জোর করে চেপে ধরতেই তৎকালীন আইসি সঞ্জীব ঘোষ মিথ্যা ও সাজানো মামলা সাজিয়ে আমাদের গ্রেফতার করেন। এই ভুয়ো মামলায় আমাকে দীর্ঘ ৬২ দিন কারাবাসও সহ্য করতে হয়েছিল। তবে আমাদের বিচারব্যবস্থার উপর আস্থা ছিল। মূল অভিযোগকারী দীনবন্ধু বাউরীকেও আদালত ভর্ৎসনা করে স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে এটি সম্পূর্ণ একটি বানানো ঘটনা।”

তিনি আরও বলেন, আদালতের এই রায়ে সত্যের জয় হয়েছে এবং বেআইনিভাবে হয়রানি করার অপরাধে তৎকালীন আইসি সঞ্জীব ঘোষের বিরুদ্ধে তারা এবার পাল্টা মানহানির মামলা ঠুকতে চলেছেন।

আদালতের এই রায় এবং মামলার আইনি দিক ব্যাখ্যা করে আইনজীবী দেবপ্রসাদ ঘোষ জানান,

"ঐ কেসটিতে ৭ জন অভিযুক্ত ছিল, ওঁদের বিচার হয়েছে অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট জজ থার্ড কোর্টে। এবং থার্ড কোর্টের মহামান্য বিচারক ঐ ৭ জনের বিরুদ্ধে দোষ প্রমাণ না হওয়ায় ওঁদের এই কেস থেকে সম্পূর্ণভাবে খালাস করেছেন।"