নিজস্ব প্রতিনিধি, কোটশিলা:
রেল চলাচল শুরুর সেই প্রথম দিন থেকেই কোটশিলা রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে প্রথা মেনে পালিত হয়ে আসছে দেবশিল্পী বিশ্বকর্মার আরাধনা। তবে এ বছরের আয়োজন ছিল অন্য রকম। সম্প্রতি নেপালে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ হড়কা বানে বহু মানুষের প্রাণহানি ও বিপুল ক্ষয়ক্ষতি গভীরভাবে ব্যথিত করেছে স্টেশন চত্বরের কর্মীদের। তাই আড়ম্বরের পাশাপাশি এবার পুজোর মূল সুরই হয়ে উঠেছিল মানবিকতা। নিহতদের আত্মার শান্তি এবং দুর্গতদের দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর কামনায় আয়োজন করা হয় বিশেষ প্রার্থনাসভার।
সিনিয়র সেকশন ইঞ্জিনিয়ার বিজয় কুমার বাসবৎ বলেন, "প্রতিবারই আমরা পুজোয় নতুন কিছু করার চেষ্টা করি। এবারে আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল বিপন্ন মানুষের প্রতি সহমর্মিতা জানানো। নেপালের এই বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মঙ্গল কামনাই ছিল আমাদের প্রধান প্রার্থনা।"
পুজো কমিটির সদস্য ভরত কুইরি ও কার্তিক মাহাত বলেন, "ঐতিহ্য মেনে প্রতি বছর আড়ম্বর হলেও, সামাজিক দায়বদ্ধতা আমরা ভুলিনি। আগামী বছরগুলোতে এই আয়োজনকে আরও নতুন কিছু করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।"
শ্রদ্ধা ও ভক্তির পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং ভক্তদের মাঝে খিচুড়ি প্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয় দিনটি। উৎসবের আনন্দের সাথে মানবিক আবেদনের এই মেলবন্ধন কোটশিলার এই বিশ্বকর্মা পুজোকে এক আলাদা গুরুত্ব দিয়েছে।