নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
আকাশে-বাতাসে পুজোর বাদ্যি। আলোকসজ্জায় সেজে উঠছে পুরুলিয়া শহর। অথচ এই উৎসবের আলোর নিচেই ঘনীভূত হচ্ছে এক চরম দুর্ভোগের অন্ধকার। উৎসব যখন দোরগোড়ায়, ঠিক তখনই বকেয়া বেতনের দাবিতে কাজ বন্ধ করে চরম সিদ্ধান্ত নিলেন পুরুলিয়া পুরসভার অস্থায়ী সাফাই কর্মীরা। মঙ্গলবার সকাল থেকেই পুরুলিয়া শহরের গাড়িখানা এলাকায় সমস্ত কাজ থামিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তারা। যার জেরে পুজোর আগেই গোটা শহরের পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ার বড়সড় আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
উৎসবের মরসুমে যখন সাধারণ মানুষ কেনাকাটা ও উদযাপনে ব্যস্ত, তখন চরম আর্থিক অনটনে দিন কাটছে এই অস্থায়ী কর্মীদের। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, গত দু’মাস ধরে তাঁদের হাড়ভাঙা খাটুনির ন্যায্য পারিশ্রমিক মিলছে না। বকেয়া টাকা দ্রুত মিটিয়ে দেওয়ার জন্য পুরসভার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দুয়ারে একাধিকবার দরবার করা হলেও লাভের লাভ কিছুই হয়নি। বাধ্য হয়েই তাঁরা আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছেন।
সাফাই কর্মীরা বলেন, "সারা বছর আমরা রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখি। আর যখন উৎসব আমাদের ঘরের দুয়ারে, তখন আমাদের পকেট খালি! কীভাবে সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চলবে? কীভাবে ছেলেমেয়েদের মুখে হাসি ফোটাব?" তাঁদের দাবি, কাজ করেও পারিশ্রমিক না পাওয়াটা অন্যায়। যতক্ষণ না বকেয়া পুরো টাকা হাতে আসছে, এই প্রতিবাদ জারি থাকবে"।
সাফাই কর্মীদের এই অনড় অবস্থান পুর প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়েছে। বকেয়া না মিটলে আন্দোলন দীর্ঘায়িত হওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে। আর যদি সত্যি তাই হয়, তবে উৎসবের আগেই জঞ্জালের স্তূপে পরিণত হতে পারে পুরুলিয়া শহর। উৎসবের দিনগুলোতে সাধারণ নাগরিকেরা শহরজুড়ে দুর্গন্ধে ভোগান্তির শিকার হবেন কি না, এখন সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।