অন্যান্য ব্লক

নিতুড়িয়ার স্কুলে ভূত! ওঝা হয়ে গেলো বিজ্ঞান মঞ্চ

লালপুর রমণীবালা হাইস্কুলের এক লপ্তে ২২ জন ছাত্রী হঠাৎই শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এর পরপরই ঘটনাটিকে ঘিরে ছাত্রছাত্রী ও স্থানীয়দের মনে অলৌকিক ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হতে থাকে।
নিতুড়িয়ার স্কুলে ভূত! ওঝা হয়ে গেলো বিজ্ঞান মঞ্চ

 

নিজস্ব প্রতিনিধি,নিতুড়িয়া:

ভয় নয়, যুক্তির আলো দিয়েই অলৌকিকের অন্ধকার দূর করা সম্ভব,এই বার্তা নিয়ে নিতুড়িয়ার লালপুর রমণীবালা হাইস্কুলে পৌঁছাল পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ। সম্প্রতি একটি আকস্মিক অসুস্থতার ঘটনাকে ঘিরে স্কুলে ছড়ানো ভূতুড়ে আতঙ্ক কাটাতে বৃহস্পতিবার এক বিশেষ বিজ্ঞান সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করা হয়।

ঘটনার সূত্রপাত গত ১৭ সেপ্টেম্বর। সেদিন লালপুর রমণীবালা হাইস্কুলের এক লপ্তে ২২ জন ছাত্রী হঠাৎই শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এর পরপরই ঘটনাটিকে ঘিরে ছাত্রছাত্রী ও স্থানীয়দের মনে অলৌকিক ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হতে থাকে। বিষয়টি জানার পরই দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের পুরুলিয়া জেলা শাখা।

বৃহস্পতিবার স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের মুখোমুখি হয়ে বিজ্ঞানের বিভিন্ন মজার প্রদর্শনীর  মাধ্যমে বোঝানো হয়, অলৌকিক বলে চালিয়ে দেওয়া অনেক ঘটনার পেছনেই লুকিয়ে রয়েছে সহজ ও বাস্তবসম্মত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। ভয়ের বশে মানুষ কীভাবে ভুল ধারণার শিকার হয়, তা স্পষ্ট করে দেন প্রতিনিধিরা।

স্কুলের অসুস্থতার নেপথ্য কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ নয়ন মুখোপাধ্যায় ও সংগঠনের পুরুলিয়া জেলা সভানেত্রী মল্লিকা সান্যাল জানান, "এটি কোনো অলৌকিক কান্ড নয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় একে বলা হয় ‘মাস সাইকোজেনিক ইলনেস’ বা ‘মাস হিস্টিরিয়া’। কোনো মানসিক চাপ বা ভয়ের কারণে দলবদ্ধভাবে মানুষের শরীরে এই ধরনের শারীরিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তাই ঘটনাটিকে অলৌকিক তকমা না দিয়ে এর মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক কারণ বোঝা অত্যন্ত জরুরি।

উক্ত কর্মসূচিতে বিজ্ঞান মঞ্চের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন জেলা সম্পাদক ডাঃ নয়ন মুখোপাধ্যায়,  সভানেত্রী মল্লিকা সান্যাল এবং সক্রিয় সদস্য জয় প্রকাশ মাহাত ও সৌভিক মুখোপাধ্যায়।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে অন্ধবিশ্বাস দূর করে অনুসন্ধিৎসু মন গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিজ্ঞান মঞ্চের বার্তা— “ভয় নয়, যুক্তি দিয়ে ভাবুন। কুসংস্কার নয়, বিজ্ঞানকে জানুন। প্রশ্ন করুন, পরীক্ষা করুন, সত্যকে জানুন।” পুরুলিয়া জেলাজুড়ে প্রতিটি ঘরে বিজ্ঞানের আলো পৌঁছে দেওয়ার এই সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে বলে সংগঠনের প্রতিনিধিরা জানান।