সাধারণ খবর ব্লক

হয়ে গেলো ভূমিপূজন, পুরুলিয়া থেকে প্লেন ওড়া এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা?

বিমানবন্দর চালু হলে পুরুলিয়ার পর্যটন, চিকিৎসা, শিল্প ও বাণিজ্যে গতি আসতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়দের একাংশ। এখন নজর ৫ অক্টোবরের প্রস্তাবিত মউ এবং তার পরের কাজের অগ্রগতির দিকে।
হয়ে গেলো ভূমিপূজন, পুরুলিয়া থেকে প্লেন ওড়া এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা?

 

শুভদীপ মাহাতো, পুরুলিয়া:

পুরুলিয়া থেকে বিমান ওড়ার অপেক্ষা শেষের পথে।  ৫ অক্টোবর কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে মউ স্বাক্ষরের সম্ভাবনা। তার আগেই মঙ্গলবার বিকেলে পরিত্যক্ত রানওয়েতে বঙ্গ বিজেপির রাজ্য কার্যনির্বাহী সদস্য গৌতম রায়ের তত্ত্বাবধানে নারকেল ফাটিয়ে ভূমিপূজন করল বিজেপি। ২৮ সেপ্টেম্বর মউ স্বাক্ষরের কথা থাকলেও নীতিন নবীনের সফর ঘিরে ব্যস্ততার কারণে তা পিছিয়ে ৫ অক্টোবর করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ওই অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী কিঞ্জারাপু রামমোহন নাইডু, প্রতিমন্ত্রী মুরলিধর মোহোল এবং এয়ারপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান বিপিন কুমারের থাকার কথা। সম্প্রতি পুরুলিয়ায় এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও ছড়রা বিমানবন্দর নিয়ে মউ স্বাক্ষরের কথা জানিয়েছিলেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তৈরি ছড়রার এই এয়ারস্ট্রিপ দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত। কেন্দ্রের উড়ান প্রকল্পের আওতায় সেটিকেই নতুন বিমানবন্দরে পরিণত করার পরিকল্পনা হয়েছে। তবে রয়েছে রেললাইন ও হাইটেনশন লাইনের অবস্থান-সহ একাধিক প্রযুক্তিগত বাধা। ২০২৩ সালে এয়ারপোর্ট অথরিটি অব ইন্ডিয়া প্রাথমিক সমীক্ষা করেছিল। রানওয়ে বাড়াতে অতিরিক্ত জমির প্রয়োজন হতে পারে বলেও জানা গিয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পে প্রথম পর্যায়ে রয়েছে প্রায় ১১০০ মিটার রানওয়ের পরিকল্পনা । বিমানবন্দর তৈরির জন্য এটিসি ভবন, দমকল, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ওয়াচ টাওয়ার-সহ একাধিক পরিকাঠামোও গড়ে তুলতে হবে। লাভ হবে বিমান সংস্থার? চিন্তা নেই। উড়ান প্রকল্পের আওতায় বিমান পরিষেবা চালু হলে সংস্থাগুলিকে কেন্দ্র ভর্তুকি দিতে পারে।

বিজেপির রাজ্য কার্যনির্বাহী কমিটির  সদস্য গৌতম রায় বলেন, "পুরুলিয়ার মানুষের বহুদিনের স্বপ্ন আজ বাস্তবায়নের পথে। কেন্দ্র ও রাজ্য—উভয় সরকারের সমন্বয়ে এই উন্নয়নমূলক উদ্যোগ সম্ভব হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীকে জেলাবাসীর পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আগামী ৫ তারিখের স্মারকপত্র স্বাক্ষরের আগে এই ভূমিপূজন পুরুলিয়াবাসীর আবেগ ও দীর্ঘ অপেক্ষারই বহির্প্রকাশ।"

শিল্পপতি অজিত সরাওগি বলেন, "এটি পুরুলিয়াবাসীর জন্য অত্যন্ত আনন্দের খবর, কারণ এখন আর বিমান ধরার জন্য রাঁচি বা অণ্ডাল যেতে হবে না। অবশ্যই, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার ফলে রঘুনাথপুরসহ সমগ্র জেলায় যেমন বৃহৎ শিল্পের বিনিয়োগ বাড়বে, তেমনই পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের আগমনও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে"।


স্থানীয় বাসিন্দা মুকেশ দেওঘরিয়া বলেন, "আমাদের জেলার জন্য এটি এক যুগান্তকারী মুহূর্ত। এতদিন জরুরি প্রয়োজন বা বাণিজ্যের কাজে যাতায়াত করা বেশ কঠিন ও সময়সাপেক্ষ ছিল। ছড়রায় যদি আঞ্চলিক মানের বিমানবন্দর গড়ে ওঠে, তবে আমাদের ঘরের ছেলেমেয়েদের শিক্ষা বা চিকিৎসার জন্য আর ভোগান্তির শিকার হতে হবে না।"
বিমানবন্দর চালু হলে পুরুলিয়ার পর্যটন, চিকিৎসা, শিল্প ও বাণিজ্যে গতি আসতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়দের একাংশ। এখন নজর ৫ অক্টোবরের প্রস্তাবিত মউ এবং তার পরের কাজের অগ্রগতির দিকে।