নিজস্ব প্রতিনিধি, রঘুনাথপুর
পাহাড়-টিলা কাটায় নিষেধাজ্ঞার কথা প্রকাশ্য সভা থেকে ঘোষণা করেছিলেন খোদ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই ঘোষণার পরেও ফের পাহাড় কাটার অভিযোগ উঠল রঘুনাথপুরের বেড়োয়। যন্ত্র দিয়ে চণ্ডী পাহাড় কাটার ছবি সমাজমাধ্যমে ভাইরাল। এলাকাবাসীর প্রশ্ন, মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পরেও যদি পাহাড় কাটার কাজ চলে, তা হলে কার ক্ষমতাবলে?
স্থানীয় ‘চণ্ডী পাহাড় বাঁচাও’ কমিটির দাবি, খেলাইচণ্ডী পাহাড়ের একটি বড় অংশ ইতিমধ্যেই খনন করা হয়েছে। কমিটির প্রশ্ন, ‘পাহাড়ের অর্ধেক কেটে কি পাহাড়কে বাঁচানো যায়?
বেড়ো গ্রামের বাসিন্দা বিক্রম বাউরি বলেন, " পুরুলিয়া এসে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলে গিয়েছিলেন যে পাহাড় ভাঙা যাবে না। তিনি যখন এসেছিলেন, তখন পাহাড়ের কাজ বন্ধ ছিল। কিন্তু তিনি চলে যাওয়ার পর ফের এখানে পোকল্যান্ড মেশিন, ট্রেলার নিয়ে এসে পাহাড় কাটার কাজ ও ডিনামাইট ফাটিয়ে পাথর ভাঙার কাজ পুরোদমে চালানো হচ্ছে। এতে আমরা গ্রামবাসী খুব আশঙ্কায় ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি।"
প্রশ্ন উঠছে অন্যত্রও। মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্য সভায়, প্রশাসনিক বৈঠকে এমনকি সাংবাদিকদের সামনেও বলে গেছেন, পাহাড় কাটতে দেবেন না। তবে সপ্তাহ পার হলেও এখনো জারি হয়নি বিজ্ঞপ্তি। শুধু তাই নয়, বিগত সরকারের আমলে যে প্রকল্পগুলি শুরু হয়েছিল, সেই প্রকল্পগুলিও কি মুখ্যমন্ত্রীর এই নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকবে? সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো অবশ্য বলছেন পাহাড় কাটা বন্ধ হবেই।
পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো বলেন,"পশ্চিমবঙ্গে বিরোধী দলে থাকাকালীন যেমন আমরা পাহাড়, জল, জঙ্গল ও জমি রক্ষায় লড়াই করেছি, এখনও ঠিক একইভাবে অবৈধভাবে পাহাড়-পর্বত কাটা বা প্রাকৃতিক সম্পদ নষ্ট করা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশ,আগের সরকারের আমলের অনিয়ম বন্ধ করে পুরুলিয়ার এই প্রাকৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো রকম আপস ছাড়াই আমরা প্রাকৃতিক সম্পত্তি রক্ষায় বদ্ধপরিকর।"
সমস্যা রয়েছে অন্যত্রও। পূর্বের গৃহীত প্রকল্পগুলিও যদি বন্ধ হয়, তবে কি ধাক্কা খাবে না শিল্পায়ন? জেলার শিল্পপতিদের আশঙ্কা তাতে মারাত্মক ভাবে ধাক্কা খেতে পারে বিনিয়োগ। অন্যদিকে প্রশ্ন উঠছে, মুখ্যমন্ত্রীর প্রকাশ্য ঘোষণার পরেও যদি বেড়োর চণ্ডী পাহাড়ে যন্ত্র চলে, তা হলে পাহাড় কাটছে কারা? কাদের ক্ষমতাবলে? একদিকে শিল্প অন্যদিকে পরিবেশ রক্ষা, এই দোটানায় এখন রয়েছে পুরুলিয়া।