রাজনীতি ব্লক

প্রশাসনের হঠাৎ নিষেধ, তবু ঝালদার পঞ্চায়েতে প্রধান উপপ্রধান নির্বাচন, উত্তেজনা তুঙ্গে

গত ১ সেপ্টেম্বর প্রাক্তন প্রধান উর্মিলা নায়েক পদত্যাগ করার পর থেকেই মাড়ু মসিনা পঞ্চায়েতে উন্নয়নমূলক কাজ ব্যাহত হচ্ছিল। এই অচলাবস্থা কাটাতে দ্রুত নির্বাচনের দাবি তুলেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
প্রশাসনের হঠাৎ নিষেধ, তবু ঝালদার পঞ্চায়েতে প্রধান উপপ্রধান নির্বাচন, উত্তেজনা তুঙ্গে

 


নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া :

সভা ডাকার পর প্রশাসনিক স্তরে তা বাতিল ঘোষণা করা সত্ত্বেও, নিজেদের মধ্যে বৈঠক ডেকে প্রধান ও উপ-প্রধান নির্বাচন সেরে ফেললেন পুরুলিয়ার মাড়ু মসিনা গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যদের একাংশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিকেলের পর থেকেই তপ্ত ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের রাজনীতি। পঞ্চায়েত চত্বরের এই ঘটনা কি আইনি বৈধতা পাবে, নাকি প্রশাসনিক বিরোধিতায় তা থমকে যাবে তা নিয়ে জোরালো হচ্ছে রাজনৈতিক তরজা।

প্রশাসনিক বিজ্ঞপ্তি মেনে গত ২৩ সেপ্টেম্বরের চিঠির ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দুপুর নাগাদ প্রধান ও উপ-প্রধান নির্বাচনের বৈঠক নির্ধারিত ছিল। পূর্ব ঘোষণা মতোই নির্দিষ্ট সময়ে কার্যালয়ে উপস্থিত হন একাধিক সদস্য। অভিযোগ, সভা শুরুর ঠিক পৌনে এক ঘণ্টা আগে,  বিডিওর নির্দেশে পঞ্চায়েতের এগজিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট সভা বাতিলের নোটিস জারি করেন। অতর্কিতে এই সিদ্ধান্ত আসায় স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন পঞ্চায়েতে আসা সদস্যেরা।

প্রশাসনের তরফে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কাকে সভা বাতিলের প্রধান কারণ হিসেবে দর্শানো হলেও উপস্থিত সদস্যদের দাবি ভিন্ন। তাঁদের বক্তব্য, পঞ্চায়েতে কোনো বিশৃঙ্খলা ছিল না, শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই সকলে উপস্থিত হয়েছিলেন। এই অবস্থায় সভা বাতিলের প্রশাসনিক নির্দেশ অমান্য করে নিজেদের সিদ্ধান্তেই এগোতে চান সদস্যেরা। ১১ জন পঞ্চায়েত সদস্যের মধ্যে উপস্থিত সাতজন সদস্য একটি বৈঠক ডাকেন। সেখানে সর্বসম্মতিক্রমে গুরুপদ মাহাতোকে সভাপতি মনোনীত করা হয়।  ভোটাভুটির পর কংগ্রেসের প্রিয়ঙ্কা মণ্ডলকে প্রধান ও রহিন কুমারকে উপ-প্রধান হিসেবে নির্বাচিত  করা হয়।

প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ছাড়া এমন একতরফা প্রধান নির্বাচন কতটা আইনসঙ্গত, তা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে সংশয় রয়েছে। তবে আইনি পথেই যে তাঁরা পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন নবনির্বাচিত দাবিদার রাহিন কুমার। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, "জনগণের স্বার্থেই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রশাসন যদি এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে স্বীকৃতি না দেয়, তবে আমরা আদালতের দ্বারস্থ হব।"

মসিনা গ্রাম পঞ্চায়েতের ইএ  মলয় হালদার বলেন, উচ্চতর প্রশাসনিক নির্দেশ ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে আজকের সভা বাতিল সংক্রান্ত বিডিওর নির্দেশিকা এসে পৌঁছায়। আমি শুধু সেই নির্দেশটি সদস্যদের জানিয়ে দিয়েছি। এর বাইরে সদস্যদের কোনো নিজস্ব সভা বা সিদ্ধান্ত নিয়ে মন্তব্য করার এক্তিয়ার আমার নেই।"

নির্বাচিত প্রধান প্রিয়ঙ্কা মণ্ডল জানান,
"প্রশাসন হঠাৎ সভা বাতিল করে জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করতে চেয়েছিল। কিন্তু নির্বাচিত সদস্যদের অধিকাংশ আমাদের পাশে ছিলেন। আইন মেনেই আমরা সভা পরিচালনা করে সাধারণ মানুষের স্বার্থে পঞ্চায়েতের অচলাবস্থা মেটানোর চেষ্টা করেছি।"

উল্লেখ্য, গত ১ সেপ্টেম্বর প্রাক্তন প্রধান উর্মিলা নায়েক পদত্যাগ করার পর থেকেই মাড়ু মসিনা পঞ্চায়েতে উন্নয়নমূলক কাজ ব্যাহত হচ্ছিল। এই অচলাবস্থা কাটাতে দ্রুত নির্বাচনের দাবি তুলেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কিন্তু বৃহস্পতিবারের প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের পর পরিস্থিতি সমাধান না হয়ে আরও জটিল মোড় নিল বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।