রাজনীতি শহর

'শ্যামাপ্রসাদ অসুখ'! এসএফআই-এর পোস্টার ঘিরে জে কে কলেজে তুলকালাম

আরএসএস ভাবধারার ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস ছিলো বৃহস্পতিবার। পুরুলিয়া জে কে কলেজ চত্বরে রাজনৈতিক বার্তা নিয়ে পোস্টার লাগিয়েছিল এসএফআই। অভিযোগ, সেই রাতেই একদল বহিরাগত যুবক কলেজে ঢুকে সমস্ত পোস্টার ছিঁড়ে দেয়। এই নিয়ে ঝামেলা।
'শ্যামাপ্রসাদ অসুখ'! এসএফআই-এর পোস্টার ঘিরে জে কে কলেজে তুলকালাম

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:

ছেঁড়া হয়েছে এসএফআই দলের পোস্টার। জে কে কলেজের এমন ঘটনা ঘিরে অভিযোগ পালটা অভিযোগে উত্তাল এলাকা। এসএফআই -এর অভিযোগ, গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট করতে পরিকল্পিতভাবে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে পুরুলিয়ার জগন্নাথ কিশোর (জে কে) কলেজে। কলেজ ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ, পড়ুয়াদের গণতান্ত্রিক অধিকারে হস্তক্ষেপ এবং মিথ্যা অপপ্রচারের চলছে। এমন অভিযোগ তুলে এবার তীব্র আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিল ভারতের ছাত্র ফেডারেশন (এসএফআই)। শনিবার পুরুলিয়া শহরের নডিহা কৃষক ভবনে আয়োজিত একটি সাংবাদিক সম্মেলন থেকে এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান সংগঠনের জেলা সম্পাদক সায়ন্তন ঘোষ।

আরএসএস ভাবধারার ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস ছিলো বৃহস্পতিবার। পুরুলিয়া জে কে কলেজ চত্বরে রাজনৈতিক বার্তা নিয়ে পোস্টার লাগিয়েছিল এসএফআই। অভিযোগ, সেই রাতেই একদল বহিরাগত যুবক কলেজে ঢুকে সমস্ত পোস্টার ছিঁড়ে দেয়। শুধু তাই নয়, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এবং ক্যাম্পাসে বিভাজনের রাজনীতি তৈরি করতে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনটির বিরুদ্ধে উল্টে দেশবিরোধী স্লোগান দেওয়ার মনগড়া ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলে ওই বহিরাগতরা। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ক্যাম্পাসে এবিভিপি ও এসএফআইয়ের আদর্শগত লড়াইকে হাতিয়ার করে কলেজ স্তরের রাজনীতিতে মেরুকরণ ঘটানোই ছিল এই বহিরাগতদের মূল উদ্দেশ্য।

শনিবার সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে এসএফআই-এর জেলা সম্পাদক সায়ন্তন ঘোষ অত্যন্ত কড়া ভাষায় এই ঘটনার নিন্দা করে‌ তিনি বলেন,
"কলেজের সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থে লাগানো পোস্টার ছেঁড়ার সাহস যারা দেখিয়েছে, তারা আসলে ছাত্র সমাজেরই শত্রু। নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে তারা এখন দেশভক্তির ভুয়ো তাস খেলছে এবং আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার ছড়াচ্ছে। পুরুলিয়ার ছাত্র সমাজ এতটা বোকা নয়। ক্যাম্পাসকে কলুষিত করার এই আরএসএস-বিজেপি মার্কা চক্রান্ত আমরা কোনোভাবেই সফল হতে দেব না।"
অন্যদিকে বিজেপি নেতা গৌতম রায় বলেন, বামেরা যখন ক্ষমতায় ছিলো,  কলেজে কলেজে গণতন্ত্রের দফারফা করত এসএফআই। আমরা বলি সেলফিশ ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া। কলেজে ওরাই ভারতের মনীষীদের নামে কুৎসা ছড়াচ্ছিল। এবিভিপি ওদের দেখে নেবে।"