সাধারণ খবর ব্লক

অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের ডিমের পরিমাণে কারচুপি, তুমুল উত্তেজনা বরাবাজারে

আইসিডিএস সেন্টারের এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল পুরুলিয়ার বরাবাজার ব্লকের ঝরিয়া এলাকায়। শিশুদের নিম্নমানের খাবার দেওয়া, ডিমের পরিমাণে কারচুপি এবং সরকারি প্রকল্পের সমীক্ষায় ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় গ্রামবাসীরা।
অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের ডিমের পরিমাণে কারচুপি,  তুমুল উত্তেজনা বরাবাজারে

 

নিজস্ব প্রতিনিধি,বরাবাজার:

আইসিডিএস সেন্টারের এক ঘটনাকে  কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল  পুরুলিয়ার বরাবাজার ব্লকের ঝরিয়া এলাকায়। শিশুদের নিম্নমানের খাবার দেওয়া, ডিমের পরিমাণে কারচুপি এবং সরকারি প্রকল্পের সমীক্ষায় ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় গ্রামবাসীরা।

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, উত্তেজিত জনতা সংশ্লিষ্ট আইসিডিএস কর্মী ও সহায়িকাকে সেন্টারের ঘরের ভেতরে দীর্ঘক্ষণ তালাবন্দি করে রাখেন। খবর পেয়ে বরাবাজার থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তালা খুলে তাদের উদ্ধার করে।

গ্রামবাসীদের মূল অভিযোগ কেন্দ্রের পুষ্টিকর আহার বণ্টন নিয়ে। স্থানীয় মহিলাদের দাবি, "শিশুদের যে খিচুড়ি দেওয়া হয় তার পরিমাণ অত্যন্ত সামান্য এবং গুণগত মান অত্যন্ত নিম্নমানের। একটু দেরি হলেই শিশুদের খাবার না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি কোনো শিশু কিছুদিনের জন্য মামার বাড়ি বা কোথাও বেড়াতে গেলে তার খাবার দেওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিক্ষোভকারীরা জানান,"সরকারি নিয়ম বা তালিকা অনুযায়ী খিচুড়িতে ডাল, তেল, নুন, সবজি, আলু, মটর বা বাদাম থাকার কথা, তার কিছুই নেই। কেবলই 'হলুদ জল'। শিশুদের পুষ্টিকর ও ভালো মানের খাবার দেওয়ার পাশাপাশি এই অব্যবস্থার 
সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা। গ্রামবাসীরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন এই প্রতিবাদ কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়। বরং সাধারণ মানুষ ও শিশুদের অধিকারের লড়াই। এই দাবিতে তারা কেন্দ্রের রান্না ও খাবার বিতরণও আটকে দেন।

গ্রামবাসীদের ক্ষোভ, শুধু খাবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। তাঁদের অভিযোগ, 'অন্নপূর্ণা যোজনা ' প্রকল্পের সমীক্ষার কাজেও সংশ্লিষ্ট আইসিডিএস কর্মী ব্যাপক অনিয়ম করেছেন। বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রকৃত অবস্থা যাচাই না করেই টেবিলে বসে তালিকায় টিকমার্ক দেওয়া হয়েছে। ফলে বহু যোগ্য ও দরিদ্র পরিবার এই সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, অথচ সম্পন্ন ও চাকরিজীবীদের নাম তালিকায় উঠেছে।

সমস্ত অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আইসিডিএস কর্মী কবিতা মাহাতো । তিনি জানান, বিডিও অফিস থেকে ভেরিফাই করার জন্য তাঁর কাছে অন্নপূর্ণা যোজনার ৪০ জনের যে তালিকা এসেছিল, তা তিনি সঠিকভাবে সম্পন্ন করেছেন। বাকি তালিকায় কী হয়েছে তা তাঁর জানা নেই।

অন্যদিকে, খাবারের মান ও ডিম কম দেওয়ার বিষয়ে প্রশাসনের দিকে আঙুল তুলে কবিতা দেবী জানান, "অফিস থেকে ডিমের জন্য আমাদের মাত্র ৬ টাকা ৫০ পয়সা দেওয়া হয়। কিন্তু বর্তমান বাজারে দোকান থেকে আমাদের সাড়ে ৭ টাকা বা ৮ টাকা দিয়ে ডিম কিনতে হচ্ছে। সেই টাকাও আমরা ৩ মাস পর হাতে পাই। এছাড়া সবজি ও তেলের জন্য যে সরকারি বরাদ্দ মেলে, তা বাজারের চড়া দামের তুলনায় অনেক কম। ফলে বাধ্য হয়ে ধারদেনা করে ও ঘাটতি সামাল দিয়ে কোনোমতে কাজ চালাতে হচ্ছে।"
পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে এলেও, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের এই পুষ্টি ও প্রশাসনিক অনিয়ম নিয়ে বরাবাজার ব্লকের ওই এলাকায় চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।