সুইটি চন্দ্র, পুরুলিয়া
কম বয়সী জনপ্রতিনিধিদের ‘তুমি’ বলে সম্বোধন করে অসম্মান করা হচ্ছে প্রশাসনিক বৈঠকের মঞ্চেই এমন অভিযোগ তুললেন পুরুলিয়ার বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো। শুক্রবার পুরুলিয়া শহরের রবীন্দ্রভবনে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের বৈঠকে তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে শোরগোল জেলার প্রশাসনিক মহলে।
পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের ছ’টি প্রকল্পের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে জেলা সফরে বেরিয়েছেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। শুক্রবার ছিল পুরুলিয়ার বৈঠক। উপস্থিত ছিলেন দফতরের আধিকারিকদের পাশাপাশি জেলার বিধায়ক, জেলা প্রশাসনের কর্তারা এবং প্রায় ৫০০ কর্মী-আধিকারিক। ছিলেন ভিবি-জিআরএএমজি প্রকল্পের কমিশনার সিয়াদ এন, সিনিয়র স্পেশাল সেক্রেটারি প্রসেনজিৎ হংস, স্পেশাল সেক্রেটারি সুদীপ সরকার, অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি প্রদীপকুমার মণ্ডল এবং পুরুলিয়ার জেলাশাসক সুধীর কোন্থম।
বৈঠকে জেলার বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ওঠে। অন্য জেলার তুলনায় পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের বেশ কিছু কাজে পুরুলিয়া পিছিয়ে রয়েছে বলে অভিযোগ। গ্রে ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পে প্রায় ২২ কোটি টাকা পড়ে রয়েছে। ১৬৭টি কমিউনিটি টয়লেট তৈরির লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও এখনও ১৩৬টি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং ৩০টি জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে। স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির উন্নয়নেও প্রায় ৫১ কোটি টাকা অব্যবহৃত রয়েছে। জেলার ২০টি ব্লকের মধ্যে ১৪টি ব্লক ওই প্রকল্পের জন্য কোনও আবেদনই করেনি বলে বৈঠকে জানানো হয়। এই পরিসংখ্যান সামনে আসার পরেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন জ্যোতির্ময়। তিনি বলেন, লোকসভার বাদল অধিবেশন শেষ হয়েছে। এ বার তিনি নিয়মিত এলাকায় ঘুরবেন। কোথাও কাজ না হলে সংশ্লিষ্ট দফতরকে চিঠি দেবেন। কাজ না করার সংস্কৃতি থেকে আধিকারিকদের বেরিয়ে আসতে হবে। এমন চলতে থাকলে ‘কোচবিহার, দার্জিলিং যেতে হবে’ বলেও আমলাদের সতর্ক করেন তিনি। এর পরেই প্রশাসনিক মহলে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আধিকারিকদের আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সাংসদ। তাঁর অভিযোগ, কম বয়সী জনপ্রতিনিধিদের অনেক সময় আধিকারিকেরা ‘তুমি’ বলে সম্বোধন করেন। জ্যোতির্ময়ের কথায়, বয়স কম হলেই জনপ্রতিনিধিকে অসম্মান করার অধিকার কারও নেই। এ ভাবে অসম্মান করা চলবে না।
সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো বলেন,
"শৌচালয় নির্মাণের জন্য বর্তমানে ১২,০০০ টাকার পাশাপাশি শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে এবং এখন আর কোনো কাটমানি চাওয়া হয় না। তবে এই কাজের ক্ষেত্রে পুরুলিয়ার পরিস্থিতি অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ও কষ্টদায়ক। একশ্রেণীর অফিসার চক্রান্ত করে অভিজ্ঞ, প্রবীণ ও অসুস্থ কর্মীদের নানাভাবে হেনস্থা করছেন, যা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। সব বিষয় জেলাশাসকের পক্ষে একার পক্ষে জানা বা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়"।
অন্য দিকে, বৈঠক থেকে আধিকারিকদের ‘মিশন মুডে’ কাজ করার বার্তা দেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। প্রকল্পের কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের উপর জোর দেন তিনি। কাজের ক্ষেত্রে আইন ও কারিগরি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হলেও মানুষের প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখে আধিকারিকদের মানবিক হওয়ার পরামর্শ দেন জ্যোতির্ময়ও।