সাধারণ খবর রাজনীতি শহর

"কুড়মিরা তো কূর্ম ক্ষত্রিয়, কেন হবে এস.টি?" মাঝি পরগনা মহলের আন্দোলনে নতুন বিতর্ক

বিক্ষোভ সভা থেকে প্রধান দাবি তুলে ধরেছে ভারত জাকাত মাঝি পরগনা মহল, কুড়মি-মাহাত সম্প্রদায়কে কোনোভাবেই এসটি তালিকার আওতাভুক্ত করা চলবে না।

 

সুইটি চন্দ্র, পুরুলিয়া:

কুড়মিদের এসটি  তালিকাভুক্ত করার জল্পনা ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিবৃতিকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিচ্ছে পুরুলিয়ার মাঝি পরগনা মহল। সম্প্রতি বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাত-র এক মন্তব্যকে ঘিরে ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে সংগঠনের মধ্যে। সেই ক্ষোভের জেরেই মঙ্গলবার জেলাশাসকের দপ্তরের সামনে  বিক্ষোভ প্রদর্শন করে ভারত জাকাত মাঝি পরগনা মহল।

কুড়মি-মাহাত জনগোষ্ঠীকে এসটি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার যেকোনো প্রচেষ্টাকে অনৈতিক এবং ‘জনজাতিদের অধিকার হরণ’ বলে দাবি করেছে এই সংগঠনটি। বিক্ষোভ শেষে জেলাশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপিও জমা দেওয়া হয়। এই প্রতিবাদ কেবল পুরুলিয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, জেলা পারগানা রতনলাল হাঁসদার নেতৃত্বে একই দাবিতে রাজ্যজুড়ে একযোগে কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

সম্প্রতি পুরুলিয়ার বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাত দাবি করেছিলেন যে, কুড়মিদের এসটি তালিকাভুক্ত করার দাবিটি ঐতিহ্যগত এবং তারা অতীতে এই তালিকার অংশ ছিল। তাঁর এই বক্তব্যেই মূল বিতর্কের সূত্রপাত। জনজাতি সংগঠনগুলির দাবি, এতে তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক সত্ত্বা এবং সাংবিধানিক সংরক্ষণের সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

বিক্ষোভ সভা থেকে  প্রধান দাবি তুলে ধরেছে ভারত জাকাত মাঝি পরগনা মহল, কুড়মি-মাহাত সম্প্রদায়কে কোনোভাবেই এসটি তালিকার আওতাভুক্ত করা চলবে না।

সাঁওতালি ভাষায় পড়াশোনা ও পরিকাঠামোগত উন্নতির জন্য অবিলম্বে পৃথক সাঁওতালি শিক্ষা বোর্ড গঠন করতে হবে।

আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, প্রশাসন ও সরকার যদি তাঁদের এই যৌক্তিক দাবিগুলি দ্রুত বিবেচনা না করে, তবে আগামী দিনে সম্পূর্ণ রাজ্যজুড়ে আরও বড় আকারের গণ-আন্দোলনের মুখোমুখি হতে হবে।