ক্রাইম শহর

শাড়িতে নারী সেজে পুরুলিয়ায় ধৃত চার বাংলাদেশীকে নিয়ে কী বললেন সাংসদ জ্যোতির্ময়?

হোটেলের ঘরটি উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দা মনি সরকার নামে এক মহিলার আধার কার্ড দেখিয়ে বুক করা হয়েছিল। একজনের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে দিনের পর দিন একাধিক ব্যক্তি কীভাবে রইলেন এবং হোটেল কর্তৃপক্ষের পরিচয় যাচাইয়ে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
শাড়িতে নারী সেজে পুরুলিয়ায় ধৃত চার বাংলাদেশীকে নিয়ে কী বললেন সাংসদ জ্যোতির্ময়?

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:

শাড়ির আড়ালে নারী সেজে আত্মগোপন করে ভারতে বেআইনিভাবে বসবাস! কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। শাড়ি পরা এক যুবকের সন্দেহজনক ঘোরাঘুরির সূত্র ধরে পুরুলিয়ায় আটক করা হলো চারজন বাংলাদেশি নাগরিককে।

ঘটনার সূত্রপাত ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬। দুপুর ১২টা নাগাদ রঘুনাথপুরের শালকা হাসপাতাল রোডে এক ব্যক্তিকে শাড়ি পরা অবস্থায় ঘুরতে দেখেন স্থানীয়রা। তাঁর চালচলনে সন্দেহ হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। জানা যায়, ওই ব্যক্তির নাম মহম্মদ তৌহিদ মণ্ডল, বাড়ি বাংলাদেশের রাজবাড়ি জেলার পাংশায়। খবর পেয়ে রঘুনাথপুর থানার পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।

পুলিশি জেরায় তৌহিদ স্বীকার করেন যে, গত ১ সেপ্টেম্বর নদিয়া সীমান্ত দিয়ে আরও কয়েকজনের সঙ্গে বেআইনিভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছিলেন তিনি। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুরুলিয়া টাউন থানা এলাকার একটি বহুতলে অভিযান চালিয়ে আরও তিনজনকে আটক করে পুলিশ। তাঁরা হলেন বাংলাদেশের রাজবাড়ি জেলার বাসিন্দা মহম্মদ জাহিদ ইমন এবং কুষ্টিয়া জেলার বাসিন্দা সুমন শেখ ও শান্ত হোসেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পুরুলিয়া শহরের ওই বহুতলে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে ঘর ভাড়া নিয়ে ছিলেন এই চার যুবক। নিজেদের পরিচয় লুকাতে তাঁরা সকলেই মহিলাদের পোশাক পরে থাকতেন। ফলে হোটেলের মালিক, কর্মী বা নিরাপত্তারক্ষীদের মনে তাঁদের নিয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ থাকেনি।

হোটেল মালিক নজরুল হক বলেন,
"ওঁরা শাড়ি পরতেন, দেখতেও পুরোপুরি মহিলাদের মতোই লাগত। তাই আমরা ভেবেছিলাম ওঁরা মহিলা বা তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ। এভাবে বাংলাদেশি নাগরিকরা বেআইনিভাবে ঢুকে থাকবে, তা আমরা ঘুণাক্ষরেও টের পাইনি।"

হোটেলের নিরাপত্তারক্ষী সনাতন দাঁ জানান, "প্রতিদিনই তো নানা লোক যাতায়াত করে। ওঁদের সাজপোশাক দেখে কোনোদিন পুরুষ বলে মনে হয়নি, তাই সন্দেহ করার মতো কিছু চোখে পড়েনি।"

হোটেল কর্মী তুলা কালিন্দী বলেন,
"পরিষ্কার বা রান্নাবান্নার কাজে যখন যেতাম, সাধারণ মহিলাদের মতোই ওঁদের ব্যবহার দেখতে পেতাম। ওঁরা যে আসল পরিচয় লুকিয়ে রাখছিলেন, তা পুলিশ আসার পরই জানতে পারলাম।"

তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, ঘরটি উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দা মনি সরকার নামে এক মহিলার আধার কার্ড দেখিয়ে বুক করা হয়েছিল। একজনের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে দিনের পর দিন একাধিক ব্যক্তি কীভাবে রইলেন এবং হোটেল কর্তৃপক্ষের পরিচয় যাচাইয়ে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

পুলিশ সুপার কুমার শানি রাজ জানান, 
"রঘুনাথপুর থানা ও পুরুলিয়া টাউন এলাকা থেকে মোট ৪ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তারা নদিয়া সীমান্ত দিয়ে দালালের মাধ্যমে ভারতে প্রবেশ করেছিল। বর্তমানে তাদের জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে তৈরি ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছে। আইবি এবং বিএসএফ-এর সাথে যোগাযোগ করে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।"

এ বিষয়ে  সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো বলেন, "মোদিজির আমলে কোনো অনুপ্রবেশকারী ছাড় পাবে না। মুখ্যমন্ত্রী গর্তে কার্বলিক অ্যাসিড ঢালায় সাপের মতো এদের বের হতে হচ্ছে, কিন্তু প্রশাসন কাউকে ছাড়বে না। সরকার আইনগতভাবে তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে, চিন্তার কিছু নেই"।

 

*হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ থেকে প্রাপ্ত ছবি।