সুইটি চন্দ্র, পুরুলিয়া:
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন এবং তাঁর ২৫ বছরের টানা জনসেবাকে স্মরণীয় করে রাখতে জেলাজুড়ে পালিত হলো এক অভূতপূর্ব উৎসব।
আলোকমালা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং শ্রদ্ধার এক মেলবন্ধনে ভাসল পুরুলিয়ার বিখ্যাত সাহেব বাঁধ, এমএসএ ইন্ডোর স্টেডিয়াম আর রবীন্দ্র ভবন।
সরকারি ও সামাজিক উদযাপনের এই যৌথ মঞ্চে একদিকে যেমন স্থান পেল আদিবাসী জীবনযাত্রার ধারা, তেমনই ১ লক্ষ প্রদীপের আলোয় ফুটে উঠল এক ঐতিহাসিক শিল্পকর্ম।
বিকেলের পর থেকেই উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে সাহেব বাঁধ প্রাঙ্গণ। ঝাড়খণ্ডের বিখ্যাত ‘কলা জোহার’ টিমের ১১ জন ওয়ার্ল্ড রেকর্ড হোল্ডার শিল্পী টানা ৩দিনের দিনের অক্লান্ত পরিশ্রমে তৈরি করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি সুবিশাল রঙিন মোজাইক পোর্ট্রেট। সুমিত গুঞ্জন স্যারের নির্দেশনায় ও শিল্পী সুজিত কুমারের নেতৃত্বে প্রায় ১ লক্ষ প্রদীপ দিয়ে আড়াই হাজার বর্গফুটের এই প্রদীপ চিত্রপটটি ফুটিয়ে তোলা হয় ইন্ডোর স্টেডিয়ামে। শিল্পী সুজিত কুমার আবেগে ভেসে জানান, "পুরুলিয়াবাসীর ভালোবাসা ও প্রশাসনিক সহায়তা আমাদের এই কঠিন কাজকে সহজ করে দিয়েছে। ভবিষ্যতে আবারও পুরুলিয়ার বুকে এমন কাজের সুযোগ পেলে আমরা ধন্য হব।"
সন্ধ্যার ধূপ-ধূনা ও প্রদীপের আলোয় এক স্বর্গীয় পরিবেশ গড়ে ওঠে সাহেব বাঁধে। প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘায়ু ও সুস্থতা কামনা করে আয়োজন করা হয় বিশেষ আরতির। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সকলেই সারিবদ্ধভাবে প্রদীপ জ্বালিয়ে মোদিজির দীর্ঘ সেবামূলক জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
এর আগে শহরের রাস্তায় "আশীর্বাদের প্রদীপ" লেখা ব্যানার নিয়ে আয়োজিত পদযাত্রা ও শোভাযাত্রায় মেতে ওঠেন উপস্থিত সকলে।
এদিন প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পুরুলিয়ার জেলাশাসক সুধীর কোন্থম, পুরুলিয়ার বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, পুলিশ সুপার কুমার শানি রাজ এবং জেলা প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ আধিকারিকগণ।
সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো বলেন,
"প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজি বিগত ২৫ বছর ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে দেশের জনগণের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। আজ তাঁর জন্মদিনে পুরুলিয়ার প্রতিটি মানুষ যেভাবে প্রদীপ জ্বালিয়ে এবং ‘আশীর্বাদের প্রদীপ’ কর্মসূচির মাধ্যমে ভালবাসা ও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন, তা সত্যিই অভূতপূর্ব। ঝাড়খণ্ডের শিল্পীদের এই অনন্য মোজাইক শিল্পকর্ম আমাদের জেলাকে গৌরবান্বিত করেছে।"
জেলাশাসক সুধীর কোন্থম জানান,
"পুরুলিয়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আজকের এই সাংস্কৃতিক ও সামাজিক উৎসব সফলভাবে আয়োজন করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। স্থানীয় ঐতিহ্য ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে ঝাড়খণ্ডের শিল্পীরা যেভাবে প্রধানমন্ত্রীর সুবিশাল পোর্ট্রেট ফুটিয়ে তুলেছেন এবং সাহেব বাঁধে যে সুন্দর আরতি অনুষ্ঠান হয়েছে, তা জেলাবাসীকে এক সুসূত্রে গেঁথেছে। আমরা সমস্ত শিল্পী ও অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানাই।"