ক্রাইম ব্লক

পুরুলিয়ায় লক্ষ লক্ষ টাকার প্রতারণা মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা মূল্যের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ক্রোক করা সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে ১৫ ডেসিমেল জমি এবং তার ওপর তৈরি রঘুনাথপুরের একটি হোন্ডা বাইকের শোরুম।
পুরুলিয়ায় লক্ষ লক্ষ টাকার প্রতারণা মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তি  বাজেয়াপ্ত

 

সুইটি চন্দ্র, পুরুলিয়া:

ব্যাঙ্ক লোন পাইয়ে দেওয়ার নামে শতাধিক মানুষের সাথে প্রতারণা এবং কোটি টাকার অর্থনৈতিক অপরাধের  বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিল পুরুলিয়া জেলা পুলিশ। রঘুনাথপুর আদালতের নির্দেশ মেনে আদ্রা থানা এলাকার বাসিন্দা অভিযুক্ত জনৈক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের  ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা মূল্যের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ক্রোক করা সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে ১৫ ডেসিমেল জমি এবং তার ওপর তৈরি রঘুনাথপুরের একটি হোন্ডা বাইকের শোরুম।

পুরুলিয়া জেলা পুলিশ সুপার কুমার শানি রাজ এক সাংবাদিক সম্মেলনে পুলিশের এই সাফল্য ও তদন্তের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে বলেন,"২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে আদ্রা থানায় এই সংক্রান্ত প্রথম অভিযোগটি দায়ের করা হয়। অভিযুক্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়  মূলত বাইক কিনতে ইচ্ছুক গ্রাহকদের লক্ষ্য বানাত। গ্রাহকদের বাইক কিনে দেওয়ার ভুল বুঝিয়ে বিভিন্ন ব্যাঙ্ক থেকে অটোমোবাইল লোন নেওয়ার ফর্ম পূরণ করিয়ে নিত সে"।

পুলিশ সুপার আরও বলেন,
অভিযুক্ত নিজেই হোন্ডা শোরুমের ডিস্ট্রিবিউটর হওয়ায় তার কাছে একাধিক বাইকের চেসিস ও ইঞ্জিন নম্বর আগে থেকেই থাকত। সেই ডাটা ব্যবহার করে জাল নথি তৈরি করে সে ব্যাঙ্কে জমা দিত এবং দেখাত যে গ্রাহককে বাইক ডেলিভারি করা হয়ে গেছে। ব্যাঙ্ক সেই ভিত্তিতে সরাসরি অভিযুক্তের অ্যাকাউন্টে লোন অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা ট্রান্সফার করে দিত। এর ফলে আসল গ্রাহক কোনোদিন বাইক হাতে পেতেন না, অথচ তাঁর নামে ব্যাঙ্কের লোন চালু হয়ে যেত এবং ইএমআই জমতে শুরু করত।
পুলিশের তদন্তে জানা গেছে, এই চক্র দ্বারা মোট ১০২ জন সাধারণ মানুষ প্রতারণার শিকার হয়েছেন। শুধুমাত্র সাধারণ মানুষই নন, বেসরকারি ব্যাঙ্ক এইচডিএফসিও এই ঘটনার প্রত্যক্ষ শিকার। এই লোন জালিয়াতিতে ব্যাঙ্কটিকে সাহায্য করার অভিযোগে ব্যাঙ্কের এক কন্ট্রাকচুয়াল স্টাফ রাহুল সিংকে পূর্বেই গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। সে ৩ মাস জেলে থাকার পর বর্তমানে জামিনে মুক্ত। প্রধান অভিযুক্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও আগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

পুলিশ সুপার জানান," নতুন  আইনের নির্দেশিকা এবং রাজ্য সরকারের ফিনান্সিয়াল ইনভেস্টিগেশনে বিশেষ জোর দেওয়ার নীতির ওপর ভিত্তি করে পুলিশ এই কড়া ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সরকার নির্দেশ দিয়েছে চিটিং বা ফোর্জারির মাধ্যমে অর্জিত 'প্রসিডস অব ক্রাইম' সীজ করতে হবে"।

এই কেসের তদন্তের জন্য রঘুনাথপুরের এসডিপিও ,অ্যাডিশনাল এসপি (হেডকোয়ার্টার), আদ্রা থানার আইসি  এবং আইও -কে নিয়ে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল  গঠন করা হয়। সিটের জোরদার তদন্তের পর রঘুনাথপুর আদালতের নির্দেশে অভিযুক্তের  ১.২৫ কোটি টাকার স্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়।

ঘটনার তদন্ত এখনও জারি রয়েছে এবং এই চক্রের সাথে অন্য কেউ যুক্ত রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখছে পুরুলিয়া জেলা পুলিশ।