ক্রাইম ব্লক

‘অনুমোদন ছাড়াই গর্ভপাতের চিকিৎসা’, নিতুড়িয়ার নার্সিংহোমে গর্ভবতীর মৃত্যুর ঘটনায় অভিযোগ, ধৃত চিকিৎসক

অনুমোদন ছাড়াই গর্ভপাত সংক্রান্ত চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার অভিযোগ উঠল নিতুড়িয়ার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় রঘুনাথপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ওই অভিযুক্ত চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
‘অনুমোদন ছাড়াই গর্ভপাতের চিকিৎসা’, নিতুড়িয়ার নার্সিংহোমে গর্ভবতীর মৃত্যুর ঘটনায় অভিযোগ, ধৃত চিকিৎসক

 

নিজস্ব প্রতিনিধি , রঘুনাথপুর:

অনুমোদন ছাড়াই গর্ভপাত সংক্রান্ত চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার অভিযোগ উঠল নিতুড়িয়ার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে। চিকিৎসকেরও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ছিল না বলে অভিযোগ। ওই চিকিৎসার পর এক গর্ভবতীর মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসক-সহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় রঘুনাথপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ওই অভিযুক্ত চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই চিকিৎসকের মায়ের নামে ছিলো নার্সিংহোমটি।

নিতুড়িয়ার পি জি হেলথ কেয়ার প্রাইভেট লিমিটেডে ওই গর্ভবতীর চিকিৎসা হয়েছিল। পুরুলিয়ার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের করা অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৭ সেপ্টেম্বর নিতুড়িয়া থানায় মামলা দায়ের হয়।

স্বাস্থ্য দফতরের তদন্তে অভিযোগ করা হয়েছে, ওই গর্ভবতীর উপর ‘কমপ্রিহেনসিভ অ্যাবরশন কেয়ার’ (সিএসি) বা ল্যাপারোস্কোপিক টিউবাল লাইগেশন সংক্রান্ত প্রক্রিয়া করেন চিকিৎসক রমেন্দ্র গরাঁই।  তিনি রঘুনাথপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে কর্মরত। পাশাপাশি নিতুড়িয়ার ওই বেসরকারি নার্সিংহোমেও পরিষেবা দেন তিনি। অভিযোগ, ওই ধরনের চিকিৎসার জন্য তাঁর প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ছিল না। পাশাপাশি, পি জি হেলথ কেয়ারে এমটিপি সংক্রান্ত পরিষেবা দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য দফতর কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমোদনও ছিল না বলে স্বাস্থ্য দফতরের তদন্তে উঠে এসেছে।

চিকিৎসার নথিতেও একাধিক অসঙ্গতির কথা উল্লেখ করেছে স্বাস্থ্য দফতর। অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের পরে মহিলার  পর্যাপ্ত চিকিৎসাগত নজরদারিও হয়নি। চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি সংরক্ষণেও ঘাটতি ছিল। ওই চিকিৎসার পরেই মহিলার মৃত্যু হয়।

রমেন্দ্র গরাঁই  সরকারি হাসপাতালে কর্মরত থাকা অবস্থায় নন-প্র্যাকটিসিং অ্যালাওয়েন্স পান বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেছেন সিএমওএইচ। ফলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তাঁর কাজ করার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে এমটিপি আইন এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে জানিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। আর তারপরই গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্ত চিকিৎসককে। পুলিশ সূত্রে খবর, চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি ও অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।