সুইটি চন্দ্র, কড়াডি:
এবার করম উৎসবকে কেন্দ্র করে উত্তাল গোটা জঙ্গলমহল। ৪০ হাজার নৃত্যশিল্পীর উপস্থিতিতে আয়োজিত এই ঐতিহাসিক মহাসমাবেশে যোগ দিতে আসছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দলীয় কর্মসূচি ও প্রশাসনিক পর্যায়ের পর্যালোচনার পাশাপাশি লোকসংস্কৃতির এই বিশাল মিলনমেলাকে কেন্দ্র করে পুরুলিয়ার প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অঙ্গণে তুঙ্গে উঠেছে উত্তেজনার পারদ।
রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে এখন পুরুলিয়ার কড়াডি ময়দান। রবিবারের এই মেগা ইভেন্টকে সফল করতে ইতিমধ্যেই ময়দানে নেমেছেন আদিবাসী কুড়মি সমাজের নেতৃত্ব ও কর্মী-সমর্থকরা। আয়োজন ও সার্বিক প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে কড়াডি ময়দান পরিদর্শন করেন পুরুলিয়ার বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দলের অন্যান্য বিধায়ক ও আদিবাসী কুড়মি সমাজের প্রতিনিধিরা।
সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো বলেন,"আগামীকাল পুরুলিয়ায় মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট সকল স্বেচ্ছাসেবককে সম্পূর্ণ শান্ত ও সুশৃঙ্খল থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাধারণত উনি কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে সরাসরি অংশ নেন না, তাই প্রশাসনিক বৈঠকের পাশাপাশি সামাজিক অনুষ্ঠানে তাঁর এই উপস্থিতি পুরো জঙ্গলমহলবাসীর জন্য একটি বিশেষ ঘটনা। অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি প্রায় সমাপ্তির পথে এবং আমরা মাঠ পরিদর্শনের পর দেখেছি যে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি মানুষের সমাগম হতে চলেছে। নিঃসন্দেহে আগামী দিনটি পুরুলিয়া তথা গোটা জঙ্গলমহলের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।"
অন্যদিকে লোকসংস্কৃতির বিশ্বমঞ্চে নিজেদের পারফর্ম উপস্থাপিত করতে তৈরি শিল্পীরা। ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার শিল্পী ইতিমধ্যেই এসে পৌঁছেছেন কড়াডি ময়দানে। উৎসবের আমেজ ও দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করার প্রত্যাশা সব মিলিয়ে তাঁদের উচ্ছ্বাস তুঙ্গে।
নৃত্য শিল্পী বীণাপানি মাহাতো বলেন, " আমরা প্রচণ্ড আনন্দিত ১৭ তারিখ থেকে নাচ গান ও খাওয়াদাওয়ার ফাঁকে জোরদার মহড়া চলছে, তবে বিভিন্ন জেলা ও রাজ্য থেকে আসা বিপুল মানুষের ভিড়ে নাচের জায়গা পেতে সমস্যা হচ্ছে। আদিবাসী কুড়মি জনজাতির সংস্কৃতি রক্ষা ও আমাদের এসটি মর্যাদার দাবিটিই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আমাদের প্রধান দাবি"।
প্রশাসন সূত্রের খবর, আগামীকাল আকাশপথে হেলিকপ্টারে করে কড়াডি ময়দানেই অবতরণ করবেন শুভেন্দু অধিকারী। কড়াডি ময়দানের মূল অনুষ্ঠানের পর সার্কিট হাউসে প্রশাসনিক কাজের পর্যালোচনা এবং পরে রবীন্দ্র ভবনে বিভিন্ন জনজাতির সামাজিক প্রতিনিধিদের সাথে এক বিশেষ বৈঠক করার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর।
হেলিকপ্টারের ট্রায়াল রান থেকে শুরু করে গোটা জেলাজুড়ে তৈরি করা হয়েছে নিরাপত্তার দুর্ভেদ্য বলয়। জঙ্গলমহলের সংস্কৃতি রক্ষা এবং অধিকার আদায়ের প্রশ্নে কালকের এই কড়াডি ময়দান কোন মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্য রাজনৈতিক মহল।