সুইটি চন্দ্র, পুরুলিয়া:
দিলীপ ঘোষও বদলে গেলেন!
বিরোধী থাকাকালীন আগুন ওগরানো দিলীপ সরকারে এসে যেন অন্য মানুষ। দিতেই চাইলেন না সাংবাদিকদের জিজ্ঞেস করা কোন রাজনৈতিক প্রশ্নের উত্তর। বললেন," রাজনীতি অনেক হয়েছে, এখন উন্নয়নের কথা হোক।"
পুরুলিয়া জেলায় পঞ্চায়েত স্তরের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের পর্যালোচনায় এলেন রাজ্য পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। জেলা শাসক থেকে শুরু করে পঞ্চায়েতের নির্মাণ সহায়ক ও সচিবসহ প্রায় ৫০০ জন আধিকারিক ও কর্মচারীকে নিয়ে অনুষ্ঠিত এই রিভিউ বৈঠকে পঞ্চায়েতি কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। আবাস যোজনা, ভিবিজিরামজি (১০০ দিনের কাজ), স্বচ্ছ ভারত মিশন এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কাজকর্ম দ্রুত গতিতে শেষ করার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী।
পর্যালোচনা বৈঠকে মন্ত্রী জানান, "অন্যান্য জেলার তুলনায় পুরুলিয়ায় পঞ্চায়েতি কাজের গতি কিছুটা ধীর। আবাস যোজনার সার্ভে ও স্ক্রুটিনির কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য বলেছি।"
তিনি আরও বলেন, "আবাসনের সার্ভের শেষ দিন ছিল ১৫ তারিখ। কেন্দ্র সরকার সেই সময়সীমা আরও ১৫ দিন বাড়িয়ে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত করেছে। যাদের বাড়ি এখনও সার্ভে টিম পৌঁছায়নি, তারা দ্রুত স্থানীয় পঞ্চায়েতে যোগাযোগ করুন।
নির্বাচন এবং সাম্প্রতিক বৃষ্টির কারণে কাজ কিছুটা বিলম্বিত হলেও এখন পুরোদমে কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।"
হাতির উপদ্রব রোধে বন দপ্তরের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, "যে সমস্ত গ্রামে হাতির উপদ্রব বেশি, সেখানে বন দপ্তরের নির্দেশিকা অনুযায়ী ৫ ফুট গভীর ও চওড়া ট্রেঞ্চ খনন করা হবে, যাতে হাতি লোকালয়ে ঢুকতে না পারে। এই ট্রেঞ্চ খননের কাজ ভিবিজিরামজি' (১০০ দিনের কাজ) প্রকল্পের শ্রমিকদের দিয়েই করানো হবে"।
পাশাপাশি, বন দপ্তর থেকে চারাগাছ এনে ভিবিজিরামজি-র শ্রমিকদের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ এবং বেড়া দেওয়ার কাজ করা হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। গাছগুলির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকবে বন দপ্তর।
গ্রামে আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে 'ব্ল্যাক বেঙ্গল' ছাগল চাষের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রী জানান, "পুরুলিয়ার অরিজিনাল 'ব্ল্যাক বেঙ্গল' খাঁটি পুরুষ ছাগল হরিণঘাটার ফার্মে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে কৃত্রিম প্রজনন ব্যবস্থার মাধ্যমে এই জাতের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি ঘটানো হবে যেমনটা বর্তমানে গির বা শাহিওয়াল গরুর ক্ষেত্রে করা হয়ে থাকে।"
পঞ্চায়েতের বিভিন্ন ফান্ডে টাকা খরচ না হওয়া প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, "আগের সরকার ফান্ড নেই বলে অজুহাত দিত। কিন্তু বর্তমানে টাকার অভাব নেই, কর্মচারীরা সঠিক সময়ে খরচ করতে পারছে না বলেই এই গাইডলাইন মিটিংয়ের আয়োজন"।
কর্মচারীদের উদ্দেশে মন্ত্রী কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, "কাজের পারফরম্যান্স না থাকলে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কর্মচারীদের মধ্যে কোনো রাজনীতি বরদাস্ত করা হবে না। অবহেলা করলে তাদের প্রয়োজনে সুন্দরবনে বদলি করে দেওয়া হবে।
যাদের জব কার্ড নেই, তাদের নতুন গ্যারান্টি কার্ড দেওয়া হচ্ছে এবং পুরোনো কার্ডগুলিও ধাপে ধাপে পরিবর্তন করা হবে।"
রাজনৈতিক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী স্পষ্ট জানান, "নো পলিটিক্যাল কোশ্চেন। অনলি ডেভেলপমেন্ট।" জেলা পরিষদ সহ জেলার বিভিন্ন পঞ্চায়েতে।অনাস্থা প্রস্তাবের মতো বিষয়গুলোকে রাজনৈতিক আখ্যা দিয়ে তিনি উন্নয়নকে সম্পূর্ণ প্রশাসনিক বিষয় হিসেবেই প্রাধান্য দেওয়ার কথা ব্যক্ত করেন।