পুরুলিয়া মিরর ডিজিটাল ডেস্ক :
রাজনীতি বা কোনো সংগঠনের কোনো ধর্মঘটের ডাক ছিল না, কিন্তু পুরুলিয়া জেলা জুড়ে সৃষ্টি হলো একেবারে থমথমে, স্তব্ধ এক আবহ। আড়ম্বরপূর্ণ মনসা পুজোর পান্না উপলক্ষ্যে কোনো রকম আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই কার্যত ‘মাংস ভাত ' খেতে সামাজিক ছুটি' পালিত হলো গোটা জেলা জুড়ে। ঝালদা শহর থেকে শুরু করে জেলার সমস্ত প্রধান শহর ও গ্রামীণ বাজার এলাকাগুলোতে দেখা গেল চরম নিস্তব্ধতা।
বুধবার সকাল থেকেই জেলার রাস্তাঘাট ছিল একপ্রকার জনমানবহীন। বাজার-হাটের অধিকাংশ দোকানপাটের শাটার ছিল বন্ধ, গণপরিবহনও চলেছে অত্যন্ত নামমাত্র। কিন্তু এই স্তব্ধতার পেছনে কোনো অসন্তোষ নয়, বরং ছিল জেলাবাসীর গভীর লোকবিশ্বাস ও উদযাপনের তীব্রতা।
লোকসংস্কৃতি ও লোকবিশ্বাসের পীঠস্থান পুরুলিয়ায় মনসা পুজো কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি জেলার অন্যতম বৃহৎ সামাজিক উৎসব। বাড়ি বাড়ি ঘট স্থাপন থেকে শুরু করে মণ্ডপে মণ্ডপে দেবী মনসার মৃন্ময়ী প্রতিমা প্রতিষ্ঠা সর্বত্রই এখন উৎসবের আমেজ।
ঝালদার বাসিন্দা কানাই সাও ও বাচ্চু রাউত জানান, "পুজোকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে টানা তিন দিন ধরে চলে বিশেষ নিয়ম-নিষ্ঠা ও ব্রত পালন। ব্রতীরা উপবাসের পর নিয়ম মেনে পালন করেন পান্না । মানত অনুযায়ী হাঁস ও পাঁঠা বলিদানের পর সেই প্রসাদ পরিবারের সকলে মিলে একসঙ্গে গ্রহণ করাই এখানকার বহু পুরনো ঐতিহ্য"।
বাণিজ্যিক ব্যস্ততা বা দৈনন্দিন কাজকর্ম ভুলে বছরের এই বিশেষ দিনটিতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে উদযাপনে মেতে ওঠাই পুরুলিয়ার জনজীবনের রীতি।
ছবি : ঝালদা পুর শহরে অঘোষিত বনধ।