স্বাস্থ্য শহর

স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কঙ্কালসার অবস্থা নিয়ে ক্ষুব্ধ পদ্ম বিধায়করা

স্বাস্থ্যকেন্দ্র ঘুরে যে ছবি উঠে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। রোগী কল্যাণ সমিতির দীর্ঘদিন অডিট হয়নি, কোথাও আবার পানীয় জলেরই ব্যবস্থা নেই। একাধিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, পরিষেবার ঘাটতি এবং পরিকাঠামোর বেহাল দশার অভিযোগও তোলেন বিধায়করা।
স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কঙ্কালসার অবস্থা  নিয়ে ক্ষুব্ধ পদ্ম বিধায়করা

সুইটি চন্দ্র ও শুভদীপ মাহাতো : পুরুলিয়া:


কেউ মানবাজারে, কেউ পাড়ায়। কেউ জয়পুরে, তো কেউ বান্দোয়ানে। গত কয়েকদিন ধরে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে বিজেপি বিধায়কদের হঠাৎ পরিদর্শন ঘিরে জল্পনা তৈরি হয়েছিল পুরুলিয়াজুড়ে। কেন একসঙ্গে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন জেলার ৯ বিজেপি বিধায়ক? বুধবার তারই উত্তর মিলল জেলা প্রশাসনিক ভবনে। প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে বিজেপি বিধায়কেরা কার্যত ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁদের দাবি,  স্বাস্থ্যকেন্দ্র ঘুরে যে ছবি উঠে এসেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। রোগী কল্যাণ সমিতির দীর্ঘদিন অডিট হয়নি, কোথাও আবার পানীয় জলেরই ব্যবস্থা নেই। একাধিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, পরিষেবার ঘাটতি এবং পরিকাঠামোর বেহাল দশার অভিযোগও তোলেন তাঁরা। বিধায়কদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে জেলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অবনতির পরেও সংশ্লিষ্ট দফতর বা আধিকারিকদের তরফে কার্যকর কোনও পদক্ষেপ দেখা যায়নি। তাঁদের প্রশ্ন, “মানুষ ন্যূনতম স্বাস্থ্য পরিষেবাটুকুও পাবেন না কেন?”

স্বাস্থ্য ছাড়াও জেলার থমকে থাকা রেল প্রকল্প, বালি পাচার এবং জাতীয় সড়কের জমি জট নিয়ে জেলাশাসকের  উপস্থিতিতে সুর চড়ান জনপ্রতিনিধিরা।

বান্দোয়ানের বিধায়ক লবসেন বাস্কে বলেন,"রোগী কল্যাণ সমিতিগুলিতে দীর্ঘদিন অডিট হয়নি। আমরা এই কাজ দ্রুত সম্পন্ন করবো। "

জয়পুরের বিধায়ক বিশ্বজিৎ মাহাতো বলেন, "যে সমস্ত রেল প্রকল্পের জন্য এতদিন এনওসি দেওয়া হয়নি সেগুলোর কাজ শুরু হয়েছে। আর কোথাও কোনো অসুবিধা হবে না। "

মানবাজারের বিধায়ক ময়না মুর্মু বলেন,
"আমার এলাকার একাধিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সেখানে ঠিকমতো চিকিৎসা হচ্ছে না। হাসপাতালের অপরিচ্ছন্নতা চরমে। শৌচাগার একেবারে নোংরা। পানীয় জলের অভাব এই বিষয়গুলোই বৈঠকে তুলে ধরে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। জেলাশাসক জানিয়েছেন বিষয়গুলি গুরুত্ব সহকারে দেখে সমস্যার সমাধান করা হবে।

পাড়ার  বিধায়ক নদিয়ার চাঁদ বাউরি বলেন, "গত ১৫ বছরে তৃণমূল সরকার পুরুলিয়ায় হাসপাতালগুলিকে 'যমপুরী' বানিয়ে রেখেছে। এই হাসপাতালগুলিতে কোন সুস্থ মানুষ এলে অসুস্থ হয়ে যাবে। হাসপাতালে টিনের শেডের নিচে থাকছেন রোগীরা। ভাবুন এই গরমে রোগীর কি অবস্থা হতে পারে। একে 'যমপুরী' ছাড়া আর কী বলব।"
স্বাস্থ্য ছাড়াও এদিনের বৈঠকে উঠে আসে রেল-সংক্রান্ত নানা সমস্যা। রেল প্রকল্পের অনুমোদন আটকে থাকা, রেলপথ সংলগ্ন রাস্তার বেহাল অবস্থা নিয়েও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন জনপ্রতিনিধিরা। বিজেপি বিধায়কদের দাবি, জেলার সার্বিক পরিকাঠামো উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরেই উদাসীনতা দেখিয়েছে পূর্বতন রাজ্য সরকার।