ক্রাইম শহর

চাকরি দেবার নামে প্রতারণা মামলায় গ্রেপ্তার তৃণমূলের সংখ্যালঘু জেলা সভাপতি

পুলিশের জালে ধরা পড়লেন তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি তথা রঘুনাথপুরের প্রভাবশালী নেতা সাদ্দাম হোসেন আনসারি। রেলের চাকরি দেওয়ার নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকার প্রতারণা, সরকারি নথি ও সিলমোহর জাল করা এবং শিল্পাঞ্চলে তোলাবাজির অভিযোগে রবিবার তাকে গ্রেফতার করেছে রঘুনাথপুর থানার পুলিশ।
চাকরি দেবার নামে প্রতারণা মামলায় গ্রেপ্তার তৃণমূলের সংখ্যালঘু জেলা সভাপতি

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, রঘুনাথপুর

অন্নপূর্ণা যোজনার মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে কারচুপির অভিযোগে জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রেফতারির রেশ কাটতে না কাটতেই, পুরুলিয়ায় তৃণমূল নেতাদের দুর্নীতির আরও এক অন্ধকার অধ্যায় প্রকাশ্যে এলো। এবার পুলিশের জালে ধরা পড়লেন তৃণমূলের সংখ্যালঘু সেলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি তথা রঘুনাথপুরের প্রভাবশালী নেতা সাদ্দাম হোসেন আনসারি। রেলের চাকরি দেওয়ার নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকার প্রতারণা, সরকারি নথি ও সিলমোহর জাল করা এবং শিল্পাঞ্চলে তোলাবাজির অভিযোগে রবিবার তাকে গ্রেফতার করেছে রঘুনাথপুর থানার পুলিশ।

টানা ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই হেভিওয়েট তৃণমূল নেতার এই পরিণতিতে পুরুলিয়ার রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর ভাইপো কৃপাসিন্ধু বন্দ্যোপাধ্যায় এবং চরণপাহাড়ি দাসকে আদালত দু'দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে, অন্যদিকে, সাদ্দাম আনসারিকে সোমবার আদালতে তোলা হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, বছর চল্লিশের সাদ্দাম আনসারির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উত্থান রূপকথার চেয়ে কম কিছু নয়। একসময় ট্রেন থেকে তামাকের বান্ডিল নামিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা এই যুবকের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই অপরাধমূলক নানা কাজের অভিযোগ ছিল। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর, শাসকদলের তৎকালীন শীর্ষ স্তরের নেতার ছত্রছায়ায় তৃণমূলে যোগ দেন তিনি। এরপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি।
দলের সংখ্যালঘু সেলের জেলা সভাপতির পদ পাওয়ার পর তাঁর প্রতিপত্তি আকাশ ছোঁয়। বিলাসবহুল বাড়ি, একাধিক দামি গাড়ি, ৩০ হাজার টাকার জুতো আর ১৫ হাজার টাকার টি-শার্ট‌ সাদ্দামের এই রাজকীয় লাইফস্টাইল দেখে চোখ কপালে উঠত সাধারণ মানুষের। ২০২৪-২৫ সালের পর জেলা তৃণমূলের অন্দরে যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তাঁর মতামত কার্যত বাধ্যতামূলক হয়ে উঠেছিল।

এ বিষয়ে  রঘুনাথপুর বিজেপি  টাউন সভাপতি শান্তনু চট্টোপাধ্যায় বলেন,"সাদ্দাম আনসারির মতো একজন দুষ্কৃতী ও তোলাবাজকে তৃণমূল মাথায় তুলে রেখেছিল। রঘুনাথপুর শিল্পাঞ্চলকে ও কার্যত পৈতৃক সম্পত্তি বানিয়ে ফেলেছিল। সরকারি সিলমোহর নকল করে বেকার যুবকদের রেলে চাকরি দেওয়ার নামে যে জঘন্য প্রতারণা ও করেছে, তা ক্ষমার অযোগ্য"।

পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার টামনা থানা এলাকা থেকে সাদ্দামকে গ্রেফতারের পর , সোমবার তাঁকে রঘুনাথপুর মহকুমা আদালতে তোলা হবে। চাকরিপ্রার্থী যুবকদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা এবং সরকারি সিলমোহর জালের এই চক্রে আর কারা জড়িত, তা জানতে ধৃতকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করতে চায় পুলিশ।