সাধারণ খবর শহর

অসম্ভবকে সম্ভব করছে পুরুলিয়ার আপনা ঘর আশ্রম

"যাঁরা রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ান, ক্ষুধার্ত ও আশ্রয়হীন, তাঁদের বুকে টেনে নিয়ে চিকিৎসা, অন্ন ও বস্ত্র জোগানোর এই যে অতুলনীয় প্রয়াস, তা সচরাচর দেখা যায় না। ‘আপনা ঘর’ আজ আর পাঁচটা সাধারণ সংস্থার মতো নয়, বরং এটি পুরুলিয়ার বুকে এক পরম শ্রদ্ধেয় এবং গর্বের প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।"
অসম্ভবকে সম্ভব করছে পুরুলিয়ার আপনা ঘর আশ্রম

 

সুইটি চন্দ্র, পুরুলিয়া:

রাস্তার ধুলোবালি থেকে তুলে এনে মানসিক ভারসাম্যহীন ও ভবঘুরে মানুষদের সুস্থ জীবনের মূল স্রোতে ফিরিয়ে দেওয়া আজকের দিনে দাঁড়িয়ে কাজটা মুখের কথা নয়। কিন্তু এই অসম্ভবকেই সম্ভব করে চলেছে পুরুলিয়ার ‘আপনা ঘর’ আশ্রম। সম্প্রতি সম্পন্ন হলো এই আশ্রমের সপ্তম বার্ষিক অনুষ্ঠান।

আশ্রমের কর্ণধার সুজিত সুলতানিয়া জানান,"অনেকেই আমাদের পাশে দাঁড়ান, কিন্তু সময়ের অভাবে সবসময় আসতে পারেন না। এই মঞ্চে তাঁরা এসে নিজের চোখে দেখে যান আশ্রমের কাজ ঠিকঠাক চলছে কিনা। আমাদের কোনো ভুলত্রুটি থাকলে তা শুধরে দেওয়ার পরামর্শও তাঁরা এখানেই দেন।"


তিনি আরও জানান, যাঁরা এই আশ্রমকে ভালোবেসে পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁরা কেউ বাইরের অতিথি নন সকলেই এই বৃহৎ পরিবারের একেকটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। ২০১৮ সাল থেকে শুরু হওয়া এই যাত্রায় গত বছর একটি ছেদ পড়লেও, এবার সপ্তম বর্ষে এসেও আশ্রমের আত্মবিশ্বাসে কোনো খামতি নেই। চটজলদি কোনো জাঁকজমকপূর্ণ প্রস্তুতির ধার ধারেন না তাঁরা।  

অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে এই মানবিক কর্মযজ্ঞের ভূয়সী প্রশংসা করেন কেতিকার রামকৃষ্ণ তারক মঠের সম্পাদক ডঃ স্বামী শ্রী নির্বানানন্দজী মহারাজ। তিনি এই অনুষ্ঠানে শামিল হতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছেন ।

স্বামী শ্রী নির্বানানন্দজী মহারাজ জানান,
"যাঁরা রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ান, ক্ষুধার্ত ও আশ্রয়হীন, তাঁদের বুকে টেনে নিয়ে চিকিৎসা, অন্ন ও বস্ত্র জোগানোর এই যে অতুলনীয় প্রয়াস, তা সচরাচর দেখা যায় না। ‘আপনা ঘর’ আজ আর পাঁচটা সাধারণ সংস্থার মতো নয়, বরং এটি পুরুলিয়ার বুকে এক পরম শ্রদ্ধেয় এবং গর্বের প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে"।