নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:
ভোটার তালিকা থেকে সাধারণ মানুষের নাম বাদ পড়া, বিকল্প রুটি-রুজির ব্যবস্থা না করে হকার উচ্ছেদ এবং জেলার স্থায়ী খরা পরিস্থিতি এমনই একাধিক জ্বলন্ত সমস্যা নিয়ে সোচ্চার হলো অল ইন্ডিয়া কিষান ও খেত মজদুর সংগঠন । সোমবার এই সমস্ত বুনিয়াদি অধিকারের দাবিতে পুরুলিয়ার জেলা শাসকের দ্বারস্থ হন সংগঠনের জেলা কমিটির নেতৃত্ব ও সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ।
এদিন পুরুলিয়ার জুবলি পার্ক থেকে একটি প্রতিবাদী মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক যেমন পোস্ট অফিসের মোড়, হাটের মোড় ও কোট চত্বর পরিক্রমা করে জেলা শাসক দপ্তরের সামনে এসে পৌঁছায়। সেখানে বিক্ষোভ প্রদর্শনের পর জেলা শাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়।
কৃষক ও শ্রমিকদের এই আন্দোলনে মূলত প্রশাসনের জনবিরোধী নীতি ও উদাসীনতার বিরুদ্ধে একগুচ্ছ দাবি তোলা হয়েছে, সেগুলি হল :
১.সমস্ত বৈধ ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাদের নাম অবিলম্বে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে।
২.বিকল্প আয়ের বা পুনর্বাসনের সঠিক ব্যবস্থা না করে কোনোভাবেই গরিব হকারদের উচ্ছেদ করা চলবে না বলে সাফ জানানো হয়।
৩.গ্রামীণ অর্থনৈতিক সংকটের কথা মাথায় রেখে বন্ধ হয়ে থাকা পশু কেনাবেচার হাটগুলি অবিলম্বে চালু করার দাবি তোলা হয়েছে। একই সাথে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত করে কাজের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০০ দিন করা এবং দৈনিক মজুরি ৬০০ টাকা করার দাবি জানানো হয়।
৪.পুরুলিয়া জেলার অন্যতম প্রধান অভিশাপ হলো খরা। এই খরা সমস্যার কোনো সাময়িক মলম না লাগিয়ে, তার স্থায়ী ও বৈজ্ঞানিক সমাধানের জন্য প্রশাসনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এই গণ-আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দেন অল ইন্ডিয়া কিষান ও খেত মজদুর সংগঠন রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য রঙ্গলাল কুমার, জেলা সভাপতি সীতারাম মাহাতো এবং জেলা সম্পাদক সোমনাথ কৈবর্ত। নেতৃত্বদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি সাধারণ মানুষের এই ন্যূনতম দাবিগুলো যদি প্রশাসন দ্রুত মেনে না নেয়, তবে আগামী দিনে জেলার প্রান্তিক মানুষকে সাথে নিয়ে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথ বেছে নেওয়া হবে।