নিজস্ব প্রতিনিধি, বলরামপুর:
ঘর ছেড়েছিলেন ২৩ বছরের তরতাজা যুবক মাত্র ১৮-২০ দিন আগেই রুটি-রুজির টানে।
কিন্তু কে জানত, সেই যাওয়াই যে তাঁর শেষ যাওয়া হবে! গোয়ায় কাজে গিয়ে পুরুলিয়ার এক পরিযায়ী শ্রমিকের আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে বলরামপুর থানার দড়দা গ্রামে। মৃত শ্রমিকের নাম বিদ্যাধর সিং সর্দার (২৩)। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁর কফিনবন্দি দেহ গ্রামে এসে পৌঁছাতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যাধর গোয়ার ‘অন্নপূর্ণা স্ন্যাক্স সেন্টার’ নামে এক দোকানে কাজ করতেন। দিন কুড়ি আগে তিনি বাড়ি থেকে গোয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। গত রবিবার রাতে কাজ শেষ করে আর পাঁচটা দিনের মতোই খাওয়া-দাওয়া করে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন তিনি। কিন্তু পরদিন, অর্থাৎ সোমবার সকালে সহকর্মীরা ডিউটিতে যাওয়ার জন্য তাঁকে ডাকতে গেলে কোনো সাড়াশব্দ মেলেনি। তড়িঘড়ি তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, ঘুমের ঘোরেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ওই যুবকের। ঘটনার পর সেখানে ময়নাতদন্ত করা হয়। এরপরই বিদ্যাধরের সহকর্মীদের তৎপরতায় আকাশপথে তাঁর মরদেহ নিয়ে আসা হয় রাঁচিতে। সেখান থেকে অ্যাম্বুলেন্স যোগে বৃহস্পতিবার দুপুর নাগাদ তাঁর নিথর দেহ এসে পৌঁছায় গ্রামের বাড়িতে।
দড়দা ২ নম্বর বুথের সভাপতি অশোক কুমার দাস জানান, বিদ্যাধরের অকাল মৃত্যুতে একটি পরিবার সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে পড়েছে। তিনি জানান, "মৃত যুবক অবিবাহিত ছিলেন। তাঁর পরিবারে রয়েছেন বাবা, দাদা, ভাই ও বোন। অত্যন্ত দরিদ্র এই পরিবারটি সম্পূর্ণভাবে পরিযায়ী শ্রমের ওপর নির্ভরশীল। সংসারের খরচ টানতে বিদ্যাধরের বাবাও বর্তমানে চেন্নাইতে শ্রমিকের কাজ করছেন। ছেলেকে শেষ দেখা দেখতে আসতে পারেননি তিনি।"
পরিবারের অন্যতম উপার্জনক্ষম যুবকের এভাবে আকস্মিক মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছে সিং সর্দার পরিবার। অসহায় পরিবারটির আর্থিক অনটনের কথা বিবেচনা করে সরকারি সাহায্যের জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিরা।