নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝালদা :
শুধুমাত্র পর্যটন কেন্দ্রের তকমা দেওয়া নয়, বরং বন্যপ্রাণের আদিম বাসস্থানকে সম্পূর্ণ অক্ষুণ্ণ রেখে কীভাবে এক অভিনব ‘গ্রিন ট্যুরিজম’ বা পরিবেশ-বান্ধব পর্যটন গড়ে তোলা যায় এবার সেই পথেই হাঁটতে চলেছে পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন। ঝাড়খণ্ড সীমান্ত ঘেঁষা ঝালদা বনাঞ্চলের সেঁওয়াতি পাহাড় এবং কোটশিলার কাড়িয়র জঙ্গলকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে এক দীর্ঘমেয়াদী ও টেকসই পরিকল্পনার প্রস্তুতি।
মঙ্গলবার এই বনাঞ্চলের সার্বিক পরিবেশগত গুরুত্ব খতিয়ে দেখতে এক উচ্চপর্যায়ের পরিদর্শনে যান পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, জেলাশাসক সুধীর কোন্থম এবং মুখ্য বনপাল (দক্ষিণ-পশ্চিম চক্র) রানা দত্ত-সহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা।
ঝালদা ও কোটশিলা রেঞ্জের এই গভীর অরণ্য মূলত হাতি, চিতাবাঘ, এবং ভল্লুকের মতো বন্যপ্রাণের অবাধ বিচরণক্ষেত্র। বনদপ্তরের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, পাহাড় ও সংলগ্ন টিলাগুলো সম্পূর্ণ জনবসতিহীন। ফলে এখানকার জীব-বৈচিত্র্য অত্যন্ত আদিম ও সুরক্ষিত।
ঝাড়খণ্ড সীমান্ত সংলগ্ন হওয়ায় বন্যপ্রাণের যাতায়াতের জন্য এই করিডোর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই অঞ্চলের একদম তলদেশে বাস করেন হাতেগোনা কয়েকটি ‘বিরহোড়’ আদিবাসী পরিবার, যাঁদের সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রা প্রকৃতির সঙ্গেই জড়িয়ে।
বিগত দিনে এই বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল নিয়ে পরিবেশ-বান্ধব কোনো সুসংহত পরিকল্পনা করা হয়নি। তবে এবার প্রশাসনের লক্ষ্য প্রকৃতির কোনো ক্ষতি না করে পর্যটনকে সচল করা। নতুন পরিকল্পনার খসড়ায় মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে,
প্রথমত,পর্যটকদের ঢল নামিয়ে বনের শান্তি নষ্ট করা হবে না। প্রকৃতিপ্রেমী ও আলোকচিত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ট্র্যাকিং বা জঙ্গল সাফারির ব্যবস্থা করার কথা ভাবা হচ্ছে।
দ্বিতীয়ত, স্থানীয় বিরহোড় জনজাতির নিজস্ব সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রাকে পর্যটনের অংশ করে তাঁদের বিকল্প আয়ের উৎস তৈরি করা।
তৃতীয়ত,সেঁওয়াতি পাহাড়ের কোলে কোনো স্থায়ী কংক্রিটের কাঠামো না গড়ে সম্পূর্ণ পরিবেশ-বান্ধব ও অস্থায়ী ক্যাম্পিং-এর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রশাসনের অন্দরের খবর বন্যপ্রাণ ও পরিবেশের কোনো ক্ষতি না করে কীভাবে একটি দীর্ঘমেয়াদী রূপরেখা তৈরি করা যায়, তা নিয়ে বনদপ্তর ইতিমধ্যেই প্রাথমিক রিপোর্ট তৈরির কাজ শুরু করেছে। বর্ষার মরশুমে এই পাহাড়ের রূপ আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়। প্রকৃতির এই আদিম রূপকে অক্ষুণ্ণ রেখেই পর্যটন মানচিত্রে পুরুলিয়ার এই নয়া রত্নকে তুলে ধরাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ প্রশাসনের কাছে।