নিজস্ব প্রতিনিধি, হুড়া:
স্বয়ং জগন্নাথের পাশে পরিবর্তনের সরকার। হুড়ার কেশরগড়ে আর্থিক সঙ্কটে থাকা ঐতিহ্যময় রথযাত্রায় রাজ্য সরকার দিলো ৫ লক্ষ টাকা অনুদান। জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো ও কাশিপুরের বিধায়ক কমলাকান্ত হাঁসদার সুপারিশে কেশরগড় রথযাত্রা কমিটিকে ঐতিহ্য রক্ষায় ৫ লক্ষ টাকার চেক প্রদান করলো রাজ্য। সোমবার নবান্ন থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই চেক প্রদান করেন।
জানা গিয়েছে, পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো এবং কাশিপুরের বিধায়ক কমলাকান্ত হাঁসদার সুপারিশের ভিত্তিতেই কেশরগড়ের এই ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রার জন্য অনুদান মঞ্জুর হয়। নবান্নের মূল অনুষ্ঠানের সঙ্গে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিল বিভিন্ন জেলার প্রশাসন। পুরুলিয়া জেলাশাসকের দফতরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক সুধীর কোন্থম, পুলিশ সুপার কুমার শানি রাজ এবং কাশিপুরের বিধায়ক কমলাকান্ত হাঁসদা।
রথযাত্রা কমিটির উপদেষ্টা বঙ্কিম চক্রবর্তীর কথায়, ‘‘দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সঙ্কটে আমাদের রথযাত্রার জৌলুস হারিয়ে যাচ্ছিল। সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো ও বিধায়ক কমলাকান্ত হাঁসদার উদ্যোগে রাজ্য সরকারের এই অনুদান আমাদের নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে। আমরা সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ।’’
ইতিহাস বলছে, পঞ্চকোট রাজপরিবারের ষষ্ঠ রাজধানী ছিল কেশরগড়। আজও সেই জনপদে ছড়িয়ে রয়েছে রাজপরিবারের নানা স্মৃতি ও স্থাপত্যের নিদর্শন। ১৭৯৩ থেকে ১৮৩২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এই এলাকাই ছিল পঞ্চকোট রাজাদের রাজধানী। রথযাত্রার সূচনার নির্দিষ্ট নথি না মিললেও স্থানীয় প্রবীণদের একাংশের দাবি, ১৭৯৭ সালেই এই রথের যাত্রা শুরু। আবার অন্য একটি মত অনুযায়ী, ১৭৯৩ থেকে ১৮০১ সালের মধ্যে রাজা ভরতশেখর, ওরফে গরুড় নারায়ণ সিং দেও, এই রথযাত্রার সূচনা করেন।
কেশরগড়ের কালাচাঁদ জিউ মন্দির থেকে রথযাত্রা শুরু হয়। জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রাকে নিয়ে রথ সমগ্র গ্রাম পরিক্রমা করে গ্রামের শেষ প্রান্তে অবস্থিত মাসির বাড়িতে পৌঁছায়। একসময় রাজধানী স্থানান্তরের পর রাজপরিবারের অংশগ্রহণ কমে যাওয়ায় ধীরে ধীরে ম্লান হয়ে পড়ে রথযাত্রার জৌলুস। স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে কোনও রকমে ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চললেও একসময় তা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।
প্রায় ১৯০ বছর পর ২০২২ সালে ফের নতুন করে শুরু হয় কেশরগড়ের রথযাত্রা। সেই সময় পঞ্চকোট রাজপরিবারের সদস্যরা পুরী থেকে কাঠের জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রার বিগ্রহ নিয়ে আসেন। বর্তমানে রাজপরিবারের সদস্যরা কাশিপুর, চাকলতোড় এবং রাজনোয়াগড়ে বসবাস করলেও প্রতি বছর তাঁদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। প্রথা মেনে তাঁরাই প্রথম রথের রশিতে টান দেন। এ বছরও সেই রীতি বজায় থাকবে।
কিছুদিন আগে কেশরগড় সফরে এসে রথযাত্রা কমিটির আর্থিক সঙ্কটের কথা জানতে পারেন সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো। এরপর তাঁর উদ্যোগেই বিষয়টি রাজ্য সরকারের নজরে আসে। সেই সূত্রেই বহু প্রাচীন এই রথযাত্রার ঐতিহ্য রক্ষা ও পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যে ৫ লক্ষ টাকার আর্থিক সহায়তা মিলল বলে মনে করছে রথযাত্রা কমিটি।