সুইটি চন্দ্র, পুরুলিয়া:
অর্থই যে অনর্থের মূল, তা প্রমাণ হলো আরেকবার। সম্পত্তির লোভে শাশুড়িকে নির্মমভাবে শ্বাসরোধ করে খুন করার অপরাধে জামাইকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল পুরুলিয়া জেলা আদালত। সোমবার পুরুলিয়া জেলা ও দায়রা বিচারক সন্দীপ চৌধুরী এই রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্তর নাম জনার্দন বিশ্বাস। যাবজ্জীবনের পাশাপাশি তাকে ১০,০০০ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সাধারণ কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার আদালত অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেছে এবং সোমবার চূড়ান্ত সাজা ঘোষণা হয়। সরকারি আইনজীবী বিশ্বরূপ পট্টনায়ক জানান,"২০২৩ সালের ২১শে আগস্ট পুরুলিয়া টামনা থানার অন্তর্গত নাথুডি এলাকায় গীতা রায় নামের এক বিধবা খুন হন। নিহতের তিন কন্যার অন্যতম পূজা এই মামলার মূল অভিযোগকারীনী ছিলেন। তদন্তে নেমে জানা যায়, গীতা দেবীর বসতবাড়ি বিক্রি করে সেই টাকা নিজের নামে করার জন্য জামাই জনার্দন অনবরত চাপ সৃষ্টি করত। গীতা দেবী রাজি না হওয়ায় প্রায়ই অশান্তি হতো এবং জামাই তাঁর ওপর শারীরিক নির্যাতনও চালাত। শেষ পর্যন্ত সম্পত্তির লোভেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।"
আইনজীবী বিশ্বরূপ পট্টনায়ক আরও জানান, বিচার প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুত ও স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন হয়েছে।
পুলিশ মাত্র ৭৪ দিনের মাথায় চার্জশিট জমা দেয়। ১৮ই জানুয়ারি, ২০২৪ থেকে আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। মামলায় মোট ১৬ জন সরকারি সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। নিহতের তিন কন্যা জয়শ্রী (আসামির স্ত্রী), পূজা ও অনামিকা এবং প্রতিবেশীদের জোরালো সাক্ষ্য আসামির অপরাধ প্রমাণে বড় ভূমিকা নিয়েছে।
পাশাপাশি, ফরেনসিক মেডিসিন অ্যান্ড টক্সিকোলজির অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডাঃ পরাগবরণ পাল আদালতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য দেন। ময়নাতদন্তকারী সার্জেন হিসেবে তিনি স্পষ্ট জানান যে, এটি একটি 'হোমিসাইডাল' বা হত্যাকাণ্ড ছিল। গীতা দেবীকে 'ম্যানুয়াল স্ট্র্যাঙ্গুলেশন' অর্থাৎ হাত দিয়ে শ্বাসরোধ করে মারা হয়েছিল। পরবর্তীতে পুরুলিয়া মহিলা থানা সংলগ্ন একটি ঝোপ থেকে আসামির দেখানো জায়গা থেকে যে বালিশের ওয়াড় উদ্ধার হয়, তা দিয়েই যে শ্বাসরোধ করা সম্ভব তাও চিকিৎসাগতভাবে প্রমাণিত হয়।
সমস্ত তথ্যপ্রমাণ ও সাক্ষ্য খতিয়ে দেখে আদালত এই জঘন্য অপরাধের জন্য জামাই জনার্দনকে বিশ্বাসকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়।