নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঘমুন্ডি:
আজকের দিনে সোশ্যাল মিডিয়া কেবলই বিনোদনের মাধ্যম নয়, তা যে নিখোঁজ মানুষকে তাঁর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে তারই এক অনন্য নজির সৃষ্টি করল পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডি থানার পুলিশ। পুলিশের তাৎক্ষণিক তৎপরতা ও ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপের মতো প্ল্যাটফর্মকে সঠিক সময়ে ব্যবহার করার ফলেই নিখোঁজ হয়ে যাওয়া মাকে অবশেষে ফিরে পেলেন তাঁর ছেলে।
দিন সাতেক আগে নদীয়ার কুলি থানার অন্তর্গত ২ নম্বর আনন্দনগর এলাকার নিজের বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যান কাজল দাস। দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে তিনি কীভাবে পুরুলিয়ার বাঘমুন্ডি এলাকায় পৌঁছে গিয়েছিলেন, তা ভেবেই কূল পাচ্ছিলেন না তাঁর পরিজনেরা।
গত মঙ্গলবার রাতে বাঘমুন্ডি থানা এলাকায় বিপর্যস্ত অবস্থায় এক মহিলাকে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়াতে দেখেন কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীরা। কোনো বিপদ ঘটার আগেই তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়।
নাম-পরিচয়হীন ওই মহিলার ঠিকানা খোঁজা পুলিশের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। কিন্তু বাঘমুন্ডি থানা হাত গুটিয়ে বসে থাকেনি। তাঁর ছবি দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্ট করা হয়। আর সেই পোস্টটিই ম্যাজিকের মতো কাজ করে। খুব দ্রুতই তা পৌঁছায় নদীয়ার আনন্দনগরে কাজল দেবীর পরিবারের কাছে।
মায়ের খোঁজ পেয়ে আর এক মুহূর্তও দেরি করেননি ছেলে স্বপন দাস। বুধবার সকালেই নদীয়া থেকে বাঘমুন্ডি থানায় ছুটে আসেন তিনি। আইনি প্রক্রিয়া মেনে মাকে ছেলের হাতে তুলে দেওয়ার পাশাপাশি এক অভিনব ও মানবিক উদ্যোগ নেয় বাঘমুন্ডি থানার পুলিশ। শুধু বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়াই নয়, ঘরে ফেরার আগে ওই মাকে একটি নতুন শাড়ি উপহার দেন থানার আধিকারিকরা।
নতুন পোশাকে, হাসি মুখে মায়ের হাত ধরে ঘরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন ছেলে স্বপন।
পুলিশের এই মানবিক রূপ এবং প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এখন জেলা জুড়ে প্রশংসিত হচ্ছে।