সাধারণ খবর ব্লক

ইনস্টাগ্রামের প্রেমে নাবালিকার বিয়ের আয়োজন, গভীর রাতে পুলিশ-চাইল্ড হেল্পলাইনের অভিযানে রুখল বাল্যবিবাহ

মেয়েটি পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিল, ওই যুবককে বিয়ে করতে না দিলে সে আত্মহত্যা করবে। সেই চাপের মুখেই অনিচ্ছাসত্ত্বেও বিয়েতে সম্মতি দেন বাবা। তবে খবর পেয়ে প্রশাসন দ্রুত হস্তক্ষেপ করায় বাল্যবিবাহ রুখে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
ইনস্টাগ্রামের প্রেমে নাবালিকার বিয়ের আয়োজন, গভীর রাতে পুলিশ-চাইল্ড হেল্পলাইনের অভিযানে রুখল বাল্যবিবাহ

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:

ইনস্টাগ্রামে পরিচয়। চার বছরের সম্পর্ক। সেই প্রেমিককে বিয়ে করতেই মরিয়া নাবালিকা। বাবার আপত্তি উপেক্ষা করে বিয়ের তোড়জোড় চলছিল গভীর রাতে। শেষ পর্যন্ত পুলিশ ও চাইল্ড হেল্পলাইনের তৎপরতায় ভেস্তে গেল সেই বাল্যবিবাহ। বুধবার গভীর রাতে পুরুলিয়া ১ নম্বর ব্লকের হুলকা গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে।

গোপন সূত্রে খবর পেয়েই সময় নষ্ট না করে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় চাইল্ড হেল্পলাইনের একটি দল। তাদের সঙ্গে ছিল পুরুলিয়া মফস্বল থানার পুলিশ। রাত প্রায় ১টা নাগাদ বিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে নাবালিকার আচরণ ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে রাত আড়াইটে নাগাদ তাকে আদালতের নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য আনন্দমঠ হোমে রাখা হয়।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন চাইল্ড হেল্পলাইনের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর পিন্টু তেওয়ারি, সুপারভাইজার শরদিন্দু দাস ও বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায় এবং মফস্বল থানার পুলিশকর্মীরা।

চাইল্ড হেল্পলাইন সূত্রে জানা গিয়েছে, নাবালিকার পারিবারিক পরিস্থিতিও অত্যন্ত অসহায়। বহু বছর আগে তার মা অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে চলে যান। এরপর থেকেই বাবাই দুই সন্তানকে মানুষ করার দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি নিজে ৬০ শতাংশ শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং দিনমজুরের কাজ করে কোনওরকমে সংসার চালান। পরিবারের আর এক ছেলে কাজের সন্ধানে চেন্নাইয়ে রয়েছেন।

পরিবারের দাবি, বাবা মেয়েকে টেইলারিং প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বনির্ভর করে তুলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই পথে হাঁটতে রাজি ছিল না নাবালিকা। তদন্তে জানা গিয়েছে, প্রায় চার বছর আগে ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে ঝাড়খণ্ডের বোকারো জেলার কালাপাথর এলাকার এক যুবকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে সেই পরিচয় প্রেমের সম্পর্কে পরিণত হয়। ওই যুবককেই বিয়ে করার জন্য জোরাজুরি শুরু করে সে।

চাইল্ড হেল্পলাইনের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর পিন্টু তেওয়ারির দাবি, মেয়েটি পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিল, ওই যুবককে বিয়ে করতে না দিলে সে আত্মহত্যা করবে। সেই চাপের মুখেই অনিচ্ছাসত্ত্বেও বিয়েতে সম্মতি দেন বাবা। তবে খবর পেয়ে প্রশাসন দ্রুত হস্তক্ষেপ করায় বাল্যবিবাহ রুখে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

প্রশাসন জানিয়েছে, নাবালিকার বয়স, নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ পুনর্বাসনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহ রোধে পরিবারকে প্রয়োজনীয় আইনি ও সামাজিক পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

 

ছবি : প্রতীকী