নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঘমুণ্ডি:
অযোধ্যা পাহাড়ের আঁকাবাঁকা জঙ্গল পথে সামনে দাঁড়িয়ে দলছুট একটি হাতি। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে মোটরবাইক ফেলে প্রাণ বাঁচাতে দৌড় দিলেন দুই পুলিশকর্মী। কিছু ক্ষণের মধ্যেই একই জায়গায় হাতিটির মুখোমুখি পড়ে একই ভাবে প্রাণ বাঁচাতে ছুটতে হল আরও দুই গ্রামবাসীকে। সোমবার রাতের এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে অযোধ্যা পাহাড় এলাকায়। পরিস্থিতি বিবেচনা করে মঙ্গলবার থেকে অযোধ্যা হিলটপ থেকে মুরগুমা যাওয়ার রাস্তা সাময়িক ভাবে বন্ধ করে দিয়েছে বন দফতর।
বন দফতর সূত্রের খবর, কয়েক দিন আগে ঝাড়খণ্ড সীমান্ত পেরিয়ে ১১ থেকে ১৩টি হাতির একটি দল শাবক-সহ পুরুলিয়ার বনাঞ্চলে ঢোকে। গত কয়েক দিন ধরে দলটি অযোধ্যা পাহাড়ের বিভিন্ন জঙ্গল চষে বেড়ানোর পর বর্তমানে আড়শা রেঞ্জের বামনি এলাকার জঙ্গলে রয়েছে। সেই কারণেই ওই এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে অযোধ্যা ক্যাম্পের দুই পুলিশকর্মী একটি মোটরবাইকে পাহাড়ি রাস্তা ধরে যাচ্ছিলেন। বামনি এলাকার কাছে পৌঁছাতেই রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে থাকা হাতির মুখোমুখি পড়েন তাঁরা। আর এক মুহূর্তও দেরি না করে বাইকটি ফেলে জঙ্গলের দিকে ছুটে গিয়ে প্রাণ বাঁচান। পরে একই এলাকায় আরও দুই গ্রামবাসী হাতিটির সামনে পড়ে যান। তাঁরাও মোটরবাইক ফেলে পালিয়ে নিরাপদে আশ্রয় নেন।
খবর পেয়ে বন দফতরের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফেলে যাওয়া দুটি মোটরবাইক উদ্ধার করেন। বন দফতরের একটি র্যাপিড রেসপন্স টিম এলাকায় টহল দিচ্ছে। হাতির গতিবিধির উপর নজর রাখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন বন আধিকারিকেরা।
মানুষ-হাতি সংঘাত এড়াতে আপাতত হিলটপ থেকে মুরগুমা যাওয়ার রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। বন দফতরের পক্ষ থেকে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ওই পথে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। হাতির দলটি নিরাপদে অন্যত্র সরে না যাওয়া পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ বহাল থাকতে পারে বলে বন দফতর সূত্রে ইঙ্গিত।
ছবি : প্রতীকী