সাধারণ খবর ব্লক

হোস্টেল থেকে পালালো দুই শিশু, হুড়ায় পুলিশের তৎপরতায় উদ্ধার

স্কুল কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতি ও নজরদারির অভাবে আবাসিক হোস্টেল থেকে পালিয়ে গেল দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণীর দুই শিশু পড়ুয়া। ঘটনাটি ঘটেছে পুরুলিয়ার হুড়া থানার অন্তর্গত লধুড়কা দৌলত পাবলিক স্কুলে।
হোস্টেল থেকে পালালো দুই শিশু, হুড়ায় পুলিশের তৎপরতায় উদ্ধার

 

নিজস্ব প্রতিনিধি,হুড়া:

স্কুল কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতি ও নজরদারির অভাবে আবাসিক হোস্টেল থেকে পালিয়ে গেল দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণীর দুই শিশু পড়ুয়া। ঘটনাটি ঘটেছে পুরুলিয়ার হুড়া থানার অন্তর্গত লধুড়কা দৌলত পাবলিক স্কুলে। নিখোঁজ হওয়ার পর স্কুল থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে কলাবনি অঞ্চল থেকে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্কুল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন অভিভাবকেরা।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, লধুড়কা দৌলত পাবলিক স্কুলের আবাসিক হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করত দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র শ্যাম বাউরি এবং তৃতীয় শ্রেণীর  ছাত্র সূর্য মন্ডল । মঙ্গলবার হঠাৎই স্কুল কর্তৃপক্ষের নজর এড়িয়ে হোস্টেল থেকে বেরিয়ে যায় ওই দুই শিশু। ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়।

খবর পাওয়া মাত্রই তৎপরতার সাথে তদন্তে নামে হুড়া থানার পুলিশ, লোকাল ভিলেজ পুলিশ এবং সিভিক ভলান্টিয়াররা। চারদিকে জোরকদমে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যে কলাবনি অঞ্চলের একটি নির্জন জায়গায় ওই দুই শিশুকে দেখতে পান সিভিক ভলান্টিয়ার মানিক মাহাতো। তিনি তৎক্ষণাৎ শিশু দুটিকে নিজের হেফাজতে নেন এবং থানায় খবর দেন। এরপর পুলিশ পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় বাচ্চাদের তাদের অভিভাবকদের হাতে তুলে দেয়।

উদ্বিগ্ন ও ক্ষুব্ধ ছাত্র শ্যাম বাউরির বাবা  জানান,"কর্মসূত্রে ওড়িশা সীমান্তে থাকি। ছেলের নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়েই গাড়ি রিজার্ভ করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিই। স্কুলের এই ধরনের চরম অসচেতনতা ও গাফিলতি সত্যিই উদ্বেগজনক। হোস্টেলে বাচ্চাদের রাখার মূল কারণই হলো তাদের নিরাপত্তা। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ এতটাই উদাসীন যে দুটো ছোট বাচ্চা ১০ কিলোমিটার দূরে চলে গেল, অথচ তারা টের পর্যন্ত পেল না! তার ওপর আমাদের সময়মতো খবর না দিয়ে পুরো বিষয়টি চেপে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল।"

পুলিশের দ্রুত ভূমিকা নেওয়া ও সিভিক ভলান্টিয়ার মানিক মাহাতোর তৎপরতার কারণে এক বড়সড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে দুই শিশু, তবে আবাসিক স্কুলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ইতিমধ্যেই বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।