নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া :
পুরুলিয়াকে 'জঙ্গলমহল' হিসেবেই বাঁচিয়ে রাখতে হবে, কোনোভাবেই একে কংক্রিটের 'শহরমহল' হতে দেওয়া যাবে না।" মাঠা বনাঞ্চলে আয়োজিত জেলাস্তরের মূল অরণ্য সপ্তাহের ১৪-২০ জুলাই মঞ্চ থেকে এভাবেই পরিবেশ রক্ষার জোরালো বার্তা দিলেন পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো। সবুজায়নের এই মহোৎসবে পদ্মশ্রী দুখু মাঝির দৃষ্টান্ত টেনে তিনি স্পষ্ট জানান, "পুরুলিয়ার হৃত গৌরব ও সবুজ রূপ ফিরিয়ে আনতে প্রতিটি নাগরিকের নিজস্ব পরিবেশগত ভিশন বা লক্ষ্য থাকা জরুরি"।
অনুষ্ঠানে সাংসদ ঝালদার বাসিন্দা তথা সমাজসেবী শঙ্কর মাহাতোর প্রশংসা করে জানান, "নিজের জীবনে ১০ হাজার গাছ লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে ইতিমধ্যে প্রায় তিন হাজার গাছ লাগিয়ে ফেলেছেন ওই সমাজসেবী"। একই সঙ্গে বনভূমি ধ্বংসকারী ও কাঠ চোরদের
বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে সাংসদ বলেন, "চোরাকারবারি ও দুষ্টু লোকেদের হাত থেকে গাছ বাঁচাতে প্রশাসনকে কড়া পদক্ষেপ করতে হবে। সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক হলো, কেউ গাছ কেটে ধরা পড়লে তাকে ছাড়ানোর জন্য চার-পাঁচ জন তদবির করতে এগিয়ে আসেন। এই সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া দরকার।"
চলতি অরণ্য সপ্তাহে জেলাজুড়ে ১০ লক্ষ চারাগাছ রোপণের এক বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচিকে সফল করতে এদিন মাঠা বনাঞ্চলে একটি বিশেষ প্রচার ট্যাবলোর ফ্ল্যাগ-অফ করেন সাংসদ ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা, যা আগামী সাত দিন পুরো জেলা জুড়ে সচেতনতার বার্তা ছড়াবে।
পরিবেশ দিবসের ধারা মেনে এদিন 'একটি গাছ মায়ের নামে' কর্মসূচির আওতায় মাঠা বনাঞ্চলে ২৫টি শাল গাছের চারা রোপণ করা হয়। পাশাপাশি প্রতীকীভাবে দুই মা ও তাঁদের সন্তানদের বিশেষ সংবর্ধনা দেন সাংসদ। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল পুরুলিয়ার অরণ্যের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, জীববৈচিত্র্য ও ইকো-ট্যুরিজমের ওপর তৈরি একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন।
বনদপ্তরের পক্ষ থেকে এদিন পরিবেশ রক্ষায় অনন্য অবদানের জন্য পদ্মশ্রী দুখু মাঝির পাশাপাশি সমাজকর্মী অম্বুজ মাহাতোকে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। বনের ওপর মানুষের নির্ভরতা কমাতে ও বিকল্প জীবিকার উদ্দেশ্যে বান্দোয়ান-১ রেঞ্জের গঙ্গামান্না যৌথ পরিচালন কমিটির হাতে তুলে দেওয়া হয় ইলেকট্রিক ঢেঁকি। এ ছাড়া বন বিভাগের কর্মীদের পরিবারের ২০২৬ সালের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের কৃতি ছাত্র-ছাত্রীদেরও এই মঞ্চ থেকে পুরস্কৃত করা হয়
এদিনের এই মেগা গ্রিন ইভেন্টে সাংসদ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পুরুলিয়ার জেলাশাসক সুধীর কোন্থম, পুলিশ সুপার কুমার শানি রাজ, বাঘমুন্ডির বিধায়ক রহিদাস মাহাতো, ঝালদার এসডিপিও গৌরব ঘোষ, বাঘমুন্ডির বিডিও আর্য তা এবং বিশিষ্ট সমাজসেবী গৌতম রায় সহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তারা।