ক্রাইম

টাওয়ার বসানোর নামে লুঠ, সাইবার ক্রাইম থানার জালে মূল চক্রী

শুধু বাংলা নয়, এই প্রতারণার জাল ছড়িয়ে রয়েছে ভিন রাজ্যেও। প্রতারিত রাজমিস্ত্রির পাঠানো টাকার একটি বড় অংশ মহারাষ্ট্রের কিছু ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেও স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
টাওয়ার বসানোর নামে লুঠ, সাইবার ক্রাইম থানার জালে মূল চক্রী

 

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া:

মোবাইল টাওয়ার বসিয়ে চড়া টাকা আয়ের টোপ। আর সেই লোভের ফাঁদে পা দিয়েই নিজের জীবনের প্রায় সমস্ত পুঁজি খোয়ালেন এক শ্রমজীবী মানুষ। পুরুলিয়ার সাঁওতালডিহি থানার উপরডি গ্রামের বাসিন্দা, পেশায় রাজমিস্ত্রী রামচন্দ্র মাজীর সাথে ঘটা এই চাঞ্চল্যকর প্রতারণার তদন্তে নেমে অবশেষে এক বড়সড় আন্তঃরাজ্য সাইবার অপরাধ চক্রের হদিশ পেল পুরুলিয়া সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ।

এই চক্রের অন্যতম মূল মাথা, সুবীর বিশ্বাস নামে এক যুবককে নদীয়ার চাকদহ থানার সারাপপুর গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার ধৃতকে পুরুলিয়া জেলা আদালতে পেশ করা হলে বিচারক তাকে ৫ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে রামচন্দ্র বাবুকে টার্গেট করে এই প্রতারক চক্রটি। কোনো নামী মোবাইল কোম্পানির উচ্চপদস্থ আধিকারিক সেজে দফায় দফায় তাঁর সাথে যোগাযোগ করা হয়। বাড়ির ফাঁকা জমিতে টাওয়ার বসিয়ে দিলে প্রতি মাসে মোটা টাকা ভাড়া এবং পরিবারের একজনের চাকরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ।

ফাঁকা জমিতে টাওয়ার বসানোর অগ্রিম লাইসেন্স ফি, সরকারি ট্যাক্স এবং নানা আইনি কাগজপত্রের অজুহাত দেখিয়ে গত কয়েক মাসে রাজমিস্ত্রির কাছ থেকে মোট ৬,৪৭,৯৪৬ টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারকরা।

টাকা দেওয়ার পরও টাওয়ার বসানোর কোনো লক্ষণ না দেখে এবং উল্টে আরও টাকার দাবি করায় সন্দেহ হয় রামচন্দ্র বাবুর। গত ৯ জুন তিনি পুরুলিয়া সাইবার ক্রাইম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
তদন্তে নেমে পুলিশ ওই বিপুল অঙ্কের টাকা লেনদেনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ডিটেইলস খতিয়ে দেখতে শুরু করে। আর তাতেই উঠে আসে নদীয়ার বাসিন্দা সুবীরের নাম। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, ধৃত সুবীরের নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কয়েক লক্ষ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে।
শুধু বাংলা নয়, এই প্রতারণার জাল ছড়িয়ে রয়েছে ভিন রাজ্যেও। প্রতারিত রাজমিস্ত্রির পাঠানো টাকার একটি বড় অংশ মহারাষ্ট্রের কিছু ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেও স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

পুলিশের অনুমান, ধৃত সুবীর আসলে একটি বড়সড় আন্তঃরাজ্য সাইবার জালিয়াতি র‍্যাকেটের সক্রিয় সদস্য। এই চক্রের শিকড় কতদূর ছড়ানো এবং মহারাষ্ট্রের অ্যাকাউন্টগুলোর পেছনে কারা রয়েছে, তা জানতে সুবীরকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা শুরু করেছে পুরুলিয়া সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ। চক্রের বাকি সদস্যদের খোঁজে ভিন রাজ্যেও তল্লাশি চালানো হতে পারে।